সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

ব্যাড়ে খোন্দ খায়: প্রতিরক্ষা জটিলতা এবং প্রতিরক্ষা থেকে আত্মরক্ষা

প্রথম পর্ব: ব্যাড়ে খোন্দ খায়
(১) আমার গত লেখার শিরোনাম কিঞ্চিৎ জটিলতার সৃষ্টি করেছিল মন খারাপ । আসলে শিরোনামের ব্যাখ্যা দিয়ে শেষ করে উঠতে পারিনি। কেউ কেউ না বুঝতে পারলেও হিমু'দা অবশ্য ঠিকই ধরেছিলেন। 'ব্যাড়ে খোন্দ খায়' মানে 'বেড়া ফসল খেয়ে ফেলে'। আমাদের গ্রামাঞ্চলে 'ব্যাড়' অথবা 'বেড়' মানে ঠিক 'বেড়া' নয় যদিও। মাটি দিয়ে উঁচু করা ভিটা বাড়ির সীমানাকে 'বেড়' বলে আমাদের গ্রামাঞ্চলে (জানিনা ঠিক বোঝাতে পারলাম কিনা!)।

আমাদের গ্রামাঞ্চলে (সাতক্ষীরা) 'ব্যাড়ে খোন্দ খায়' কথাটি ব্যবহার করা হয় 'রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভুমিকা নিলে' যে পরিস্তিতি হয় সেটা বোঝাতে। আসলে 'অটোইমিউন ডিজিজ' নিয়ে লেখার ইচ্ছে ছিল, তাই এধরণের শিরোনাম দিয়েছিলাম।
(আমাদের অন্তর্গত যোদ্ধাদের বিষয়ে জানতে পড়ুন এটি এবং এটি)
(২) 'অটোইমিউন ডিজিজ' আমার হিসাবে এইডস'র চাইতেও ভয়ঙ্কর। কারণ, এইডস হলে আমাদের অন্তর্গত যোদ্ধা'দের একাংশ নিষ্ক্রিয়/ধ্বংস হয়ে যায়। আর 'অটোইমিউন ডিজিজ' হলে আমাদের অন্তর্গত যোদ্ধারাই আমাদের শত্রুপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। ৭১'র পশ্চিম পাকিস্তান'কে যদি আমার নিজের দেশ ভাবি তাহলে ২৬শে মার্চের গনহত্যা বা পাকি সেনাদের আক্রমন সবই ছিল 'অটোইমিউন ডিজিজ'। যেখানে আমাদের রক্ষক সেনাবাহিনি আমাদেরকেই ধরে ধরে মারতে শুরু করেছিল। (উধাহরণটা মনে হয় ভাল হল না!)
শরীরের প্রতিরক্ষা'র সবধরণের সমস্যা নিয়ে লেখাটি লিখলেই মনে হয় পুরো ঝামেলাটা একবারে চুকে যায়। সমস্যা মুলত তিন ধরনের। প্রথমটি প্রতিরক্ষা জটিলতা (immunodeficiency)। ইচ্ছে থাকলেও যোদ্ধাদের প্রতিরক্ষায় অংশ নিতে না পারার ব্যপারগুলো এই ভাগে পড়ে। দ্বিতীয়টি অতি-সংবেদনশীলতা (Hypersensitivity)। বুঝিয়ে বলি, ব্যপারটা অনেকটা এরকম, ধরেন সুন্দরী'দের দেখলেই আপনার চোখ অনিচ্ছাকৃতভাবে বড় হয়ে যায় আর এজন্য প্রায়শই আপনার চোখে ধুলোবালি বা পোকা ঢোকে। প্রতিরক্ষা সমস্যার সর্বশেষটি হচ্ছে 'ব্যাড়ে খোন্দ খাওয়া'র সমস্যা (Autoimmune diseases)। যেখানে আপনার অন্তর্গত যোদ্ধারা আপনার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ শুরু করে। শুরু করি 'প্রতিরক্ষা জটিলতা' দিয়ে।
প্রতিরক্ষা জটিলতা (Immunodeficiency)
শরীরের প্রতিরক্ষা'র জটিলতা আবার দুই ধরণের। প্রাথমিক জটিলতা (Primary immunodeficiency) বলা হয় টাল্টু (T cells), বল্টু (B cells) এবং অন্যান্য যোদ্ধাদের নানা সংকীর্নতাকে। সংকীর্নতা কি কি হতে পারে? হায়! মানুষের জীবনে কি কি বিপদ হতে পারে তার যদি লিস্ট করা যেত! আসলে বিপদের কোন শেষ নাই মন খারাপ । বল্টুরা ধরেন ঠিক মতো কাজ করে না। মানে যে সৈনিকের 'ঠাঁ ঠাঁ' করে গুলি করার কথা সে হয়তো আধাঘন্টা পরপর 'ফাটুশ', 'ফুটুশ' করে পটকা ফোটায়। হতে পারে টাল্টুরা বল্টুদের ঠিকমতো সংকেত দিতে পারেনা। অর্থাৎ গোয়েন্দারা বলতে ব্যর্থ হয় কোথায় কি কি অস্ত্র নিয়ে কতজন শত্রু আছে। অথবা হয়তো কখনো কখনো শত্রু যে অনুপ্রবেশ করেছে সেটাই বলতে পারে না মন খারাপ । কখনো কখনো টাল্টুরা আমাদের শরীরে বসবাসকারী সাধারণ জীবানুদের (Natural flora) প্রতি বিশেষ দুর্বলতা প্রকাশ করে। এই দুর্বলতা দেখে 'সাধারণ' জীবানুরা আর 'সাধারণ' থাকে না। তারা তখন হয়ে ওঠে ঘরশত্রু বিভীষন। বুঝিয়ে বলি, ধরেন আপনার বাসার সামনে রোজ রাতে কতগুলো বাস্তুভিটাহীন মানুষ ঘুমায়। কোন কারণে তাদের প্রতি যদি আপনার দারোয়ানের 'বিশেষ দুর্বলতা' তৈরি হয় তাহলে কি হবে চিন্তা করুন। বাস্তুভিটাহীন'রা চাইবে আপনার ঘরেই সংসার গড়তে। পারলে আপনাকে বের করে দিয়েই তারা সেটা করবে। শরীরের সাধারণ জীবানুদের প্রতি টাল্টু'দের দুর্বলতা এই সমস্যাটি তৈরি করে।
কিছু সমস্যা বংশানুক্রমিক। বংশানুক্রমে আপনার শরীরের কোন এক ধরনের যোদ্ধাদের অনুপস্থিতি থাকতে পারে। তাদের নিজের কোন বিশেষ দুর্বলতা থাকতে পারে অথবা তাদের কোন বিশেষ শত্রুর প্রতিও দুর্বলতা থাকতে পারে। এরকম একটি সমস্যা আছে (অনেক খটমট আর লম্বা নাম) যেটি হলে গণোরিয়া আর মেনিনজাইটস'র দুটি জীবানুর প্রতি যোদ্ধাদের বিশেষ দুর্বলতা দেখা যায়। ব্যাপারটি ভয়ঙ্কর। দারোয়ান যদি চোর'কে মামাতো ভাই ভাবে তবে বাড়িওয়ালার জন্য সেটি নিশ্চই ভয়ঙ্করই হবে!
এরকম কিছু সমস্য হয় গিলেখাদকদেরও (Phagocytes)। অনেক ক্ষেত্রেই তারা পূর্ণ গতিতে টপাটপ জীবানু গিলে ফেলে ঠিক, কিন্তু হজম করতে পারেনা। তাদের পেটে জারক রসের ঘাটতি পড়ে। ফলে যা হবার, জ্যান্ত আর অক্ষত জীবানুগুলোই আবার সে 'ত্যাগ' করতে বাধ্য হয়। কখনো গিলেখাদকরা চলাচলাচলের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহায়। মানে তারা শিরা থেকে কোষ বা কলাতে পৌঁছাতে পারেনা। ব্যপারটা হয় অনেকটা সেই সেনাবাহিনির মতো, যারা পাকা রাস্তায় চলতে পারে কেবল, গ্রামের মেঠোপথে নয়। সুতরাং প্রত্যন্ত গ্রামে শত্রুর হামলা হলে তারা কোন সাহায্যই করতে পারেনা।
এখন আসি দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিরক্ষা জটিলতায় (Secondary immunodeficiency)। এই জটিলতা সবই আপনার নিজের তৈরি। মানে নিজেই নিজের পায়ে/গলায় কুড়াল মারলে যেসব জটিলতা তৈরি হয় সেগুলোকে বলা হয় দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিরক্ষা জটিলতা। কেমনে কি, বুঝায়ে বলি।
অসংখ্য ওষুধ আছে যেগুলো আপনার অন্তর্গত যোদ্ধাদের দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষার পদ্ধতিতে বাধার সৃষ্টি করে। স্টেরয়েড বা স্টেরয়েড থাকে এমন ওষুধ এর অন্যতম উদাহরণ। কেবল ওষুধ নয়, আমাদের বাজারে পাওয়া যায় এমন বেশিরভাগ প্রসাধনী (নামীদামি প্রস্তুতকর্তাদের তৈরিগুলোতেও), এমনকি অনেক খাবারেও (এইটার উদাহরণ চাইলে দিতে পারব না। এইটা 'কঠিনভাবে নির্ভরযোগ্য নয়' এমন উৎস থেকে আমার শোনা কথা) স্টেরয়েড থাকে। অবশ্য কেবল স্টেরয়েড নয় আরো অনেক ধরণের ওষুধেই এরকম সমস্যা হয়।
পুষ্টিহীনতা। দেঁতো হাসি এইটা যে রোগ তৈরী করে এবং রোগ সারতেও দেয়না সেটা আপনাদের কেমনে বুঝাই! যে জিনিস আপনারা আগে থেকেই জানেন সেটা আবারো বোঝানো তো অসম্ভব! দেঁতো হাসি ! শরীরে লোহা, সেলেনিয়াম, কপার এবং দস্তার ঘাটতিও শরীরের যোদ্ধাদের ঠিকমতো কাজ করতে দেয় না। এগুলোর সঙ্গে একই ঝামেলা পাকায় ভিটামিনের অভাব। আমাদের একটা ধারণা আছে, বেশি ভিটামিন খাইলে বেশি ভাল। ব্যপারটা সেরকম না। আপনার শরীরের যেটুকু দরকার সেটুকুছাড়া বাকি ভিটামিন আপনার শরীর ফেলে দেয়। কখনো অনেক বেশি ভিটামিন শরীরে গেলে এমনকিছু রোগ হয় যেগুলো কখনো সারেনা। তবে ভিটামিন না খেলেই বেশি বিপদ। এনজাইম আমাদের শরীরে তৈরি হয়। ভিটামিন এমন এক ধরণের এনজাইম (আসলে কো-এনজাইম/coenzyme) যেটি আমাদের শরীরে তৈরি হয়না। উধাহরণ দেই, ধরেন আপনার ফ্যাক্টরিতে দুনিয়ার সবচাইতে ভাল 'বোতল' তৈরি হয় কিন্তু দুনিয়ার সবচাইতে বাজে 'ছিপি'টা তৈরি করতেও আপনি অক্ষম। চিন্তা করেন আপনার অসহায়ত্ব। ভিটামিনের ব্যপারটাও এরকমই।
জীবানুদের কারণে আপনার শরীরের যোদ্ধারা দুর্বল হয় গেলেও প্রতিরক্ষার জটিলতা তৈরি হয়। এইচআইভি (HIV)এমন একটি ভাইরাস যেটি আপনার শরীরের যোদ্ধাদের দুর্বল করে দেয়। জীবানুরা অনেকসময় ডিকয় (decoy) বানিয়ে যোদ্ধাদের ভুল বোঝায়। সেটাও তো যোদ্ধাদের দুর্বলতাই, তাই না!
অতি-সংবেদনশীলতা (Hypersensitivity)
অতিসংবেদনশীলতা চার রকমের (ধরণ ১, ২, ৩ ও ৪)। সবগুলো মিলিয়ে বলি। ভবেশ রায়ে'র 'জ্ঞানের কথা' বইটিতে এক রানী অথবা রাজকন্যার কথা পড়েছিলাম যিনি গোলাপ ফুল দেখলে অজ্ঞান হয়ে যেতেন। এটিই আসলে অতিসংবেদনশীলতা (ধরণ ১)। অনেকের ধুলোবলিতে গেলে সর্দি হয়, অনেকের অনবরত হাঁচি লাগে। অনেকের কোন বিশেষ কিছু খেলে ত্বকে/অথবা অন্য কোন অঙ্গে সমস্যা হয়। সবই অতিসংবেদনশীলতা। সহজ কথায়, আপনার শরীরের যোদ্ধাদের যদি কোন কিছু দেখে বা কোন কিছুর সংস্পর্শে এসে অনর্থক আজাইরা আচরণ করার স্বভাব থাকে তাহলে সেটা অতি সংবেদনশীলতা। কেবল যোদ্ধাদের নয় সাধারণ কোষদের আজাইরা আচরণও এর মধ্যে পড়ে। এইধরনের সব সমস্যার কথা জানতে সবার ভালো লাগবেনা। এই ব্যপারগুলো বড় খট্টমট্ট। তাছাড়া এগুলো আমি নিজে পড়তে গিয়েও প্রায়ই ঘুমিয়ে যেতাম। তাই উদাহরণ দিয়ে 'টুশটাশ'করে শেষ করে ফেললাম দেঁতো হাসি
যখন 'ব্যাড়ে খোন্দ খায়' (Autoimmune diseases)
আপনার শরীরের যোদ্ধারা নানা কারনে আপনার শত্রু হয়ে উঠতে পারে। এদের মধ্যে দুই ধরনের ব্যপার হয়। কখনো যোদ্ধারা সরাসরি হানাদার বাহিনী'তে যোগ দেয়। আবার কখনো তারা রাজাকার হয়ে হানাদারদের সাহায্য করে। যোদ্ধারা ছাড়াও শরীরের অন্যান্য কোষেরাও কখনো কখনো হয়ে উঠতে পারে নিজামীর মতো ঘাঘু রাজাকার।
বল্টুদের (B cells) হাতের (antibodies) কথা বলেছিলাম একটি লেখায়। অটোইমিউন ডিজিজে সাধারন কোষ বা প্রয়োজনীয় প্রোটিনের বিরুদ্ধেই হাত (antibodies) বানাতে শুরু করে বল্টুরা। ধরুন একধরনের বল্টু আছে যারা 'কান কাটা'র অস্ত্র বানায়। এখন যদি কোন শত্রুর কানের সঙ্গে আপনার কানের হুবহু মিল থাকে তাহলে তৈরি হয় সমস্যা। শত্রুর কানের সঙ্গে মিল থাকার শাস্তি স্বরুপ শত্রুর কান কাটা অস্ত্রে টপাটপ কাটা পড়তে থাকে আপনার নিজের কানও। এই ধরণের একটি রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেবল মেয়েদের হয়। আর এগুলো কেন হয় সেই রহস্যের বেশিরভাগই মানুষ এখনো জানেনা।
শরীরের নানান স্বভাবিক কর্মকান্ডে বাধার সৃষ্টি করেও শরীরের যোদ্ধারা আমাদের বিপক্ষে যেতে পারে। কয়েকটি রোগের উধাহরণ দিলে মনে হয় এই ব্যপারটা পরিষ্কার হবে। একটি হচ্ছে গ্রেভস ডিজিজ (Graves' disease) । এই রোগ হয় বিশেষ একধরনের এন্টিবডি শরীরে তৈরি হলে যারা থাইরয়েড গ্লান্ড'কে অনর্থক অনেক বেশি উত্তেজিত করে। এর ফলে অনেক বেশি থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয় আর ফুলে যায় থাইরয়েড গ্লান্ড।
আরেকটি রোগ মায়েস্থিনিয়া গ্রাভিস (Myasthenia gravis)। আমাদের পেশীতে স্নায়ুর সংকেত পৌঁছায় একটি বিশেষ সংযুক্তি/জোড়া (junction) পথ দিয়ে। মাইয়েস্থিনিয়া গ্রাভিস রোগটি হয় একটি বিশেষ ধরণের এন্টিবডি শরীরে তৈরি হলে যেগুলো পেশীর এই সংযুক্তিতে গিয়ে জোড়া লেগে যায়। এতে পেশীতে স্নায়ুর সংকেত ঠিক মতো পৌঁছায়না। কখনো একবারেই পৌঁছায়না। ফলে পেশীর নিয়ন্ত্রনও ব্যহত হয়। কথা বলা, চোখের পাপড়ি নিয়ন্ত্রন, হাত পায়ের নিয়ন্ত্রন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো প্রাথমিকভাবে দেখা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষনগুলি ঠিকমতো প্রকাশিত হয়না এবং একবারে শেষ পর্যায়ে যখন লক্ষনগুলি প্রকাশিত হয় তখন আর কিছু করার থাকেনা। এই রোগটির সবচাইতে ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় পেশীগুলোকেও বিকল করে দেয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেরি হলে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে রোগীর মৃত্য হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। কেবল হৃদযন্ত্রের সংকোচন-প্রসারনে কোন বাধার সৃষ্টি করতে পারেনা এই রোগটি। কারণ হৃদয়ের সংকোচন প্রসারণ হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে। (এই উপায়টি আমি একেবারেই সামান্য জানি। আসলে হৃদয়ের সংকোচন প্রসারনের সংঙ্গে জীবানুর কোন সম্পর্ক নেই কিনা!)
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid arthritis) রোগটিতে কয়েক ধরণের এন্টিবডি (Ig G ও Ig M) এবং প্রোটিন (Complement proteins) মিলে দুটি হাড়ের সংযোগস্থলে জমা হয়ে ইনফ্লামেশনের সৃষ্টি করে। এর ফলে হাড় এবং হাড়ের সংযোগস্থল দুটিই বিশষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে সবক্ষেত্রেই সম্ভবত রোগটির কারণ এন্টিবডিরা নয়। কেবল ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এন্টিবডিরা অপরাধী। বাকিক্ষেত্রের অপরাধী যারা তাদের নাম আমার অতিক্ষুদ্র জ্ঞান ভান্ডারে নেই। কেউ জানালে আমি নিজেই উপকৃত হই।
শেষ করি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple sclerosis) দিয়ে। এই রোগটিটে টাল্টুরা (T cells) এবং গিলেখাদক'রা (Phagocytes) গিয়ে স্নায়ুতে আক্রমন করে। যার ফলে দুর্বলতা এবং পরবর্তীতে প্যারালাইসিস দেখা যায়। এটি হওয়ার হার পুরুষের চাইতে নারীদের প্রায় দ্বিগুন। রোগটি কেন হয় সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এটি অনেক ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায়। দুঃখের কথা হল রোগটির কোন চিকিৎসা নেই। কিছু ওষুধ দিয়ে রোগটি বৃদ্ধির গতি হ্রাস করা যায় কেবল।
আসলে বেশিরভাগ অটোইমিউন ডিজিজেরই নির্ভরযোগ্য কোন ওষুধ নেই। অবশ্য তা থাকার কথাও নয়। কারণ ব্যাড়ে খোন্দ খেলে তা আর রক্ষার উপায় থাকেনা।
[সকল বর্ণনাই আমি যথাসম্ভব জটিলতা এড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। এড়িয়ে গিয়েছি Scientific অথবা Medical Terms. রোগ কেন কিভাবে হয় সেই ব্যাখ্যাও আমি দিয়েছি জাটিলতা এড়িয়ে এক কথায়। এই ব্যপারটি যারা Medical Science এ পড়েছেন তাদের ভাল লাগার কথা নয়। আমার নিজেরও ভাল লাগেনা। কোন পাঠক কোন বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে সানন্দে দিতে রাজি আছি।
রেফারেন্স
১. Roitt, Brostoff, Male; Immunology (6th edition) ২. Ivan M. Roitt; Essential Immunology (4th edition) ৩. Tortora, Funke, Case; Microbiology An Introduction ৪. http://en.wikipedia.org/wiki/Rheumatoid_Arthritis ৫. http://en.wikipedia.org/wiki/Myasthenia_gravis ]
২০০৯-১১-০৪ বুধবার সচলায়তনে প্রকাশিত

কোন মন্তব্য নেই: