সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

মানুষের নীতিমালা: বিকৃত মানবজন্ম

(১) তো বলছিলাম যে, আপনার বোঁচা নাকের কারণ আপনার কোষের ভেতরে থাকা আপনার নাক বিষয়ক নীতিমালা। সেখানে লেখা রয়েছে, "এই ব্যক্তির নাসিকা বোঁচা হইবে" দেঁতো হাসি । মানুষের নীতিমালা বিষয়ে কঠিন রকমের প্যাঁচাল আগেই পেড়েছি। সে দিকে আর যাব না। আর আপনারও অতশত না জানলে চলবে।
[লেখাটির প্রথম ভাগের কিঞ্চিৎ জটিলতা ভালো না লাগলে লাফ দিয়ে দ্বিতীয় ভাগে চলে যান।]
নাকের কথা যখন উঠলোই তখন একটি কথা আবার বলে রাখি, আপনার কোষের ভেতরে আছে 'নাক' সম্পর্কিত দুটি
নীতি।
দুটিই একটি ফাইলে ভরে রাখা। আপনার নাকের গড়ন, গঠন, রং, চরিত্র সব আপনার নাক বিষয়ক নীতি দ্বারাই নির্ধারিত হয়। নাক বিষয়ক দুটি নীতি আপনি পেয়েছেন আপনার বাবা এবং মায়ের কাছ থেকে। তবে এই ব্যপারটা অমোঘ নয়। এর ব্যতিক্রম আছে। মানে আপনার কোন বৈশিষ্ঠের জন্য আপনার শরীরে কখনো কখনো একটিমাত্র নীতিও থাকতে পারে।
কেমনে? কখন?
কোন নীতি যদি সেক্স ক্রোমোজমে থাকে, তাহলে পুরুষের শরীরে সেটি দুটি না থেকে একটিও থাকতে পারে।
খাড়ান বুঝায়ে বলি,
মানুষ সহ অনেক প্রাণির সেক্স ক্রোমোজম বলে একজোড়া ক্রোমোজম থাকে। সাধারণ ক্রোমোজম একইরকম দুইটা করে জোড়া বেঁধে থাকে, কিন্তু সেক্স ক্রোমোজম পুরুষদের থাকে দুইটা দুই রকম। মানুষের ক্ষেত্রে সেক্স ক্রোমোজম দুইরকমের X আর Y।
যার সেক্স ক্রোমোজম 'XX' সে মেয়ে। আর যার 'XY' সে ছেলে।
ক্রোমোজমে থাকে জিন।
আর এই জিন হচ্ছে আপনার বৈশিষ্ঠের নীতি। আপনার যদি লেজ গজানোর জিন থাকে তাহলে সত্যিই আপনার লেজ গজাবে। হাসি
একটা ক্রোমোজমে অনেকগুলো জিন থাকতে পারে। একেকটার একেক কাজ। ধরেন, মানুষের যে সেক্স ক্রোমোজম X, সেখানে একটা জিন থাকে যার কাজ একটা বিশেষ প্রোটিন বানানো যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ধরা যাক রক্ত জমাট বাঁধানো বিশেষ এই প্রোটিন যে জিনটি বানায় তার নাম 'অটুট বন্ধন" দেঁতো হাসি । এখন হিসাব সহজ, যার শরীরে আছে "অটুট বন্ধন" তার কোথাও কেটে ছিঁড়ে গেলে রক্ত জমাট বাঁধে। আর যার "অটুট বন্ধন" বন্ধন নেই, একটুখানি কেটে গেলেই রক্তক্ষরণে সে কুপোকাত।
এখন বুঝতে চেষ্টা করেন হাসি , X ক্রোমোজমে থাকে "অটুট বন্ধন"। মেয়েদের X ক্রোমোজম থাকে দুইটা। মানে কোন একটা X ক্রোমোজমে কিঞ্চিৎ গড়বড় হলেও সমস্যা নেই। সেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলে আরেকটি X ক্রোমোজম। অনেকটা এক বন্দুকে গুলি না হলে আরেকটা দিয়ে মারার মত। কিন্তু ছেলেদের কোন X ক্রোমোজমে যদি কোন ঝামেলা হয় তাহলে!? তাহলে কিছু করার নেই মন খারাপ । কারণ ছেলেদের X ক্রোমোজম থাকে মাত্র একটা। মেয়েদের শরীরে সেক্স ক্রোমোজমের কোন একটিতে বিকৃতি বা কোন সমস্যা থাকলে তাই খুব কম ক্ষেত্রেই তা প্রকাশ পায়। কিন্তু ছেলেদের সেক্স ক্রোমোজমে কোন একটিতে কোনরকম সমস্যা থাকলে তা অবশ্যই প্রকাশিত হয়। মন খারাপ
ধরেন একটি মেয়ের দুটি X ক্রোমোজমের একটিতে কোন "অটুট বন্ধন" নেই। সে নিজে সুস্থ্য হলেও নিজের শরীরে বয়ে চলেছে অপরিপূর্ণ ক্রোমোজম। এখন তার পরিবারের কি হবে?
তার পরিবারের ঠিক তাই হবে, যা হয়েছিল রানী ভিক্টোরিয়ার পরিবারে।
এই পরিবারের মেয়েরা সবাই সুস্থ হলেও তাদের অর্ধেক শরীরে বয়ে নিয়ে চলবে একটি অপরিপূর্ণ জিন। আর ছেলেদের অর্ধেক জন্মাবে অসুস্থ হয়ে। কেন এরকম হয় তা একশতাব্দীরও বেশি আগে বলে গিয়েছিলেন আমার প্রিয় পাদ্রী মেন্ডেল হাসি । (পাদ্রীর নীতিমালা ব্যাখ্যা করার জন্য আস্ত দুটি পর্ব (পড়ুন ) লিখতে হয়েছে। সেগুলো বেশ খটমট কথায় লেখা। যারা সেই পর্ব দুটি পড়েননি তারা এই ছবিটি দেখলে হয়তো বুঝতে পারবেন হাসি )
(২) এইবার আসেন পুরুষ হয়ে জন্মেছে বলে নারীর উপর খবরদারি করতে চাওয়া মোল্লাদের মুখে চুনকালি লেপন করি দেঁতো হাসি
সব মানুষ স্বাভাবিক ভাবে নারী। হাসি
মানে যদি আতকা কোন বাগড়া না দেয়া হয় তাহলে সব মানবশিশু নারী হয়ে জন্মাবে। ভ্রুনের সৃষ্টিলগ্নে বিশেষ বাগড়া দেয়া হলে তবেই কোন শিশু জন্মাবে পুরুষ হয়ে। বাগড়া দেয়াকে যদি বিকৃতি বলা যায় তাহলে পুরুষ বস্তুত বিকৃত মানবজন্ম।
কেম্নেকী?
নারীর থাকে দুইটা XX ক্রোমোজম। স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে বলে XX ওয়ালা ভ্রুন বেড়ে ওঠে নারী হয়ে। ব্যপারটি একদম স্বাভাবিক। হাসি
একটি ভ্রুন তখন পুরুষ হয়ে বেড়ে ওঠে যখন তার দুটি XX ক্রোমোজমের বদলে থাকে একটি X আর একটি Y ক্রোমোজম। X ক্রোমোজমটি স্বাভাবিকভাকে ওভারি (Ovary) তৈরি করে। কিন্তু Y ক্রোমোজমে থাকে sry* নামের একটি জিন। সে গিয়ে ওভারি তৈরির প্রকৃয়ায় বাগড়া দেয়। ফলে ওভারি তৈরি না হয়ে তৈরি হয় টেসটিস (Testes)। টেসটিস থেকে তৈরি হয় টেস্টোস্টেরন (testosterone) নামের হরমোন। এই হরমোনের কারসাজিতে ভ্রুনের মধ্যে পুরুষের বৈশিষ্ঠগুলো তৈরি হতে থাকে।
মোল্লা ভাইয়েরা লক্ষ্য করেন, নারী হওয়ার জন্য কিন্তু কোন গুঁতাগুতির দরকার হয়না। স্বভাবিকভাবে বাড়তে দিলেই একটি ভ্রুন নারী শিশু হয়ে বেড়ে ওঠে। সেই স্বাভাবিক প্রকৃয়ায় Y ক্রোমোজমের sry* জিনটি বাধা সৃষ্টি করলেই তবে একটি ভ্রুন পুরুষ শিশু হয়ে জন্মায়।
*জিনের নামের নিচে দাগ দিতে পারিনি মন খারাপ
এইবার ভূমিকা দেঁতো হাসি
মানুষের নীতিমালা দুই পর্ব লিখে দীর্ঘদিন আর কোন বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা দেয়া হয়নি। টুটুল ভাইয়ের গুঁতায় নিজের একটি বই লিখছিলাম। আর তাছাড়া পড়াশোনা বিষয়ক বিশেষ ব্যস্ততা দেঁতো হাসি ছিল অনেক বেশি। এর মধ্যে যে কয়টি লেখা দিয়েছি তা সব 'ঠাসঠুস করে ছেড়ে দেয়া' মার্কা লেখা। এখনো আমি অনেকটা ব্যস্ত। তবুও যা লিখতে ইচ্ছে করে, দীর্ঘদিন তা না লেখার জ্বালা আর সহ্য হচ্ছিল না হাসি
মানুষের নীতিমালা শেষ হয়নি। এখনো অনেকটা লিখতে চাই।
যদি আপনারা ভরসা দেন তবেই হাসি
২০১০-০২-০৮ সোমবার সচলায়তনে প্রকাশিত

কোন মন্তব্য নেই: