সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

আসেন একটা হাসপাতাল দেই...

আমাদের উচিত মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করা। আর অসুস্থ মানুষের সেবা করার চাইতে ভালব্যপার আর হতেই পারেনা। তাই আসুন আমরা অসুস্থ মানুষের সেবা করি। আমরা একটা হাসপাতাল দেই। সমস্যা কি? আপনি আর আমি দু'জনেই তো ডাক্তার। আমাদের মতো আরো ডাক্তার অনেক আছে। তাদেরকেও বুঝিয়ে শুনিয়ে দলে নিয়ে আসা যাবে। আসেন উদ্যোগটা নিয়েই ফেলি। আমি কিন্তু ইয়ার্কি মারতেছি না। সত্যি বলছি, আসেন একটা হাসপাতাল দেই।
আমি কেন ইয়ার্কি মারব! ডাক্তাররে ডাক্তার বলা কি অন্যায়!

আচ্ছা সত্যি করে বলেন তো আপনার বাসায় এখন কয় রকমের কয়টা ট্যাবলেট আছে? আমার কাছে অন্তত ১৫ রকমের গোটা পঞ্চাশেক ট্যাবলেট তো আছেই। আমিও আপনার মতো পাতলা পায়খানা হলে এমোক্সিসিল, মক্সিল অথবা টাইসিল কিনে খেয়ে নেই দুটো। আমাশয় হলে ফ্লাজিল বা ফিলমেট। মাথাব্যাথ্যায় নিশ্চিত নাপা, এইস বা প্যারাপাইরল। এখন আবার এসব প্যারাসিটামলের নতুন ভার্সন বেরিয়েছে। মুল নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্লাস বা এক্সট্রা আর উপাদানে গিয়ে জুড়েছে ৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন। এইটা খাইলে মনে বল বেশি পাই। ভাবি, কড়া ওষুধ পড়ছে। আর চিন্তা নাই। আর কোথাও ব্যাথা হলে নিশ্চিত এফেনাক বা ক্লোফেনাক খাই সঙ্গে এসিডিটির জন্য রেনিডিন, রেনিটিডিন বা নিওট্যাক।
কিছু ব্যপার যদিও আমাদের কাছে ক্লিয়ার না। যেমন কোনগুলা এন্টিবায়োটিক, কোনগুলা এন্টিব্যাকটেরিয়াল, কোনগুলা এন্টিভাইরাল, কোনগুলা এন্টিফাঙ্গাল, কোনগুলা এন্টিপ্রোটোজোয়ান, কোনগুলা এন্টিহেলমিনথিক, কোনগুলা এন্টিইনফ্লামেটরি, কোনগুলা এন্টিহিস্টামিন... ধুর বাদদেন। এইসব ফাউপ্যাঁচাল। আমার রোগ সারলেই হইছে। রোগ সারার ওষুধের নাম আমরা জানি। হাসপাতাল দিলে সমস্যা হবেনা। আসেন একটা হাসপাতাল দেই।

কিছু মমিন আছে দেখবেন, 'বালের গেঁয়ান' দেবে কানের কাছে এসে ঘ্যানঘ্যান করে। কত কি যে বলে এইগুলা। শুনলে আপনার মাথা আউলায়ে যাবে। এদের গেঁয়ানের কোন সীমা পরিসীমা নেই। বলে এন্টিবায়োটিক মেলা রকমের। কোনটা জীবানুর শরীরের বাইরের চামড়ায় গিয়া ঝামেলা পাকায়, কোনটা ঝামেলা পাকায় জীবানুর শরীরের ভিতরের চামড়ায়, কোনটা গিয়া জীবানুর প্রোটিন বানাইতে দেয়না, কোনটা বানাইতে দেয়না নিউক্লিয়িক এসিড, কোনটা জীবানুর জরুরী দরকারি কিছু মালমশলা তৈরীতে বাগড়া দেয়। আবার নতুন বলে ওষুধ আসছে জেনেটিক। এগুলোর নাম নাকি 'এন্টিসেন্স এজেন্ট' আবার কেউ বলে 'নিউবায়োটিক। এতোসব এন্টিবায়োটিকের নাকি আবার দুইটা ভাগ, ব্রডস্পেকট্রাম আর ন্যারোস্পেকট্রাম। খালি এন্টিবায়োটিক না, আরো আছে এন্টিব্যাকটেরিয়াল। ভাই মাথা নষ্ট। এতো ঝামেলায় যাইয়েননা। মাথা ব্যাথা করলে প্যারাসিটামল খান। জ্বর হইলেও প্যারাসিটামল খান। একটায় না সারলে দুইটা খান। গেয়ানিরা আবার বলে জ্বর কোন রোগ না, রোগের উপসর্গ। দেখেন দেখি ভাই, রোগের উপসর্গের জ্বলায় আমার ইয়ে দিয়ে লাল সুতা বেরোচ্ছে। আর উনি আসছেন রোগের হিসাব নিতে। আগে রোগের উপসর্গ সারাই, রোগ হইলে পরে দেখা যাবে।

ভাই গেয়ানীদের কথায় কান দিয়েন না। এন্টিবায়োটিক আপনার লিভার আর কিডনি'র বারোটা বাজায় বলে যারা চিক্কর পাড়তেছে। আসেন তাদের গলা চাইপা ধরার ব্যবস্থা করি। কোন ওষুধ খাইলে জীবানু উল্টা ১৫ গুণ বেশি বাচ্চা দেয় এতো নাম মুখস্ত রাখার দরকার নাই। তিন রকমের তিনটা ওষুধ খাইলেই হইছে। এক ওষুধ আরেক ওষুধের লগে মিল্লা ঝামেলা পাকালে পাকাক। আমাগো হাসপাতালে হাজারে দুইচারটা রোগী মরলে এতো খোঁজ হইবনা। আর বড় কথা হইতেছে হায়াত-মউত মানুষের হাতে না। কেউ মরলে আমাগো কি দায়!

আমারে একবার এক বলদে কি কয় জানেন। কয় যে, নিয়মমতো এবং মাত্রা বুইঝা ওষুধ না খাইলে বলে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবানু তৈরী হয়। সেই জীবানু আর পুরান ওষুধে মরে না। এখন বলে বাজারে সব তৃতীয়/চতুর্থ প্রজন্মের ওষুধ চলতেছে। কয়দিন পরে যখন এইগুলা জীবানুদের কাছে ডালভাত হয়ে যাবে তখন কি হবে, এই চিন্তায় বলে মাইক্রোবায়োলজিস্ট'গো ইয়ে দিয়ে ইয়ে বের হচ্ছে সমানে। বুঝছেনতো ভাই। আমাগো ওষুধের দিন আর বেশিদিন নাই মনে হইতেছে। শেষ সুযোগে একটা হাসপাতাল দেই আসেন।

কি কন? মাথা ব্যাথা করতেছে। দুইটা নাপা এক্সট্রা নাইলে এইস প্লাস খাইয়া লন। বেশি ব্যাথা করলে দুইটা এমোক্সিসিল ৫০০ খাইয়েন। গা-হাত-পা চুলকায় নাকি? মনে হয় এলার্জির সমস্যা। ও দুইটা হিস্টাসিন খাইলেই যাইবোগা। শরীর ম্যাজম্যাজ করলে এসপিরিন খায়াফালান। রাইতে ঘুমের সমস্যা নাইতো আপনার? অবশ্য এইটা আজকাল কোন ব্যাপারনা। রিলাক্সেন আছেনা! চাইলে কিটোফেন'ও খাইতে পারেন। ভাই আমি আপনি দুইজনই তো ডাক্তার, আলোচনা করলে সব রোগেরই ওষুধ বাইর করতে পারব ইনশাল্লাহ...

আসেন নিজেদের এই ক্ষমতা কেবল নিজের কাজে না ব্যবহার করে মানুষেরও কাজে লাগাই। আসেন একটা হাসপাতাল দেই...
২০০৯-০৯-১৭ বৃহস্পতিবার সচলায়তনে প্রকাশিত

কোন মন্তব্য নেই: