সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

অন্ন

'অন্ন'র আনকোরা প্যাকেটগুলো উল্টে-পাল্টে দেখতে থাকেন ড. জাফর ইকবাল। খাবার সংকটের পৃথিবীতে 'অন্ন' আসছে সমাধান হয়ে। খাবারগুলো দেখতে সাবানের মতো। ব্যাকটেরিয়া বললে কেউ খেতে চাইবে না। নাক কুঁচকে বরং ধর্মনাশের আন্দোলনেও নেমে পড়তে পারে মোল্লারা। তাই প্যাকেটের গায়ে লেখা "প্রোটিন"। সাবানের মতো সাইজে প্যাকেট করা প্রোটিনের দলা। আসলে সব জ্যান্ত ব্যাকটেরিয়া। তবে খাদ্যগুনে সাধারণ যে কোন খাবারের চাইতে হাজারগুণে ভাল। উৎপাদনেও খরচ আর সময় লাগে সাধারন খাবারের হাজারভাগের একভাগ।
ব্যাকটেরিয়া খাওয়ার যে সমস্যাগুলো ছিল জেনেটিক কারিগরি করে সেগুলো এড়ানো গেছে বলে এই ব্যাকটেরিয়া এখন দারুণ এক সুষম খাবার। 'অন্ন' দীর্ঘদিন রেখেদিলেও পচবেনা। জ্যান্ত প্রাণি আবার পচে নাকি! ওভেনের হালকা তাপে মিনিটখানেক রাখলেই দারুণ খাবার হয়ে উঠবে 'অন্ন" নামের সাবানের মতো এই খাবারের টুকরাগুলো। মিনিটখানেকের হালকা তাপে এদের মরার কথা নয়। অবশ্য তাতে কিছু যায় আসেনা। এদের রোগ বাধানোর কোন ক্ষমতাই নেই। যুদ্ধের ঢাল তলোয়ার এদের কাছ থেকে আগেই ছিনিয়ে নিয়েছেন ড. ইকবাল। জ্যান্ত অবস্থাতেও তাই ব্যাকটেরিয়াগুলো ভুনা মাংসের মতো সহজপাচ্য।
নতুন প্যাকেটগুলো দেখতে খুব একটা সময় দিতে পারেননা ড. ইকবাল। অবশ্য সময় দিতে তার অতোটা আগ্রহও হয়না। কেবল সামনে পড়েছে বলে কৌতূহলী হয়ে একটুখানি নেড়ে চেড়ে দেখা। দুদিন আগে তিনিই প্যাকেট করার জন্য এই টুকরাগুলোকে বানিয়েছেন। প্রথমবার পদ্ধতিটা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ছিলনা। নিজের হাতেই কাজ করেছেন তিনি। ইনকিউবেটর থেকে বের করে এল্যুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে দিয়েছেন প্যাকেট করতে। খুব শিগগিরই বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হবে বোধহয়। নিজের তৈরি নতুন এই খাবার বিক্রিবাটার হিসেব নিকেশও তিনি ঠিকঠাক জানেননা। তবে প্রথমবারের এই প্যাকেটগুলো বাজারে যাবেনা। যাবে এই কোম্পানীর প্রধান কেন্দ্রে। সেখানে বোধহয় কর্তা ব্যক্তিদের আলোচনা হবে কোন। কিভাবে এই খাবার সারা দুনিয়ার বাজার দখল করবে, সেই আলোচনাও হতে পারে। অবশ্য আলোচনা যাই হোক কর্তারা বোধহয় দুনিয়ার সবার আগে খাবারগুলো চেখে দেখতে চান একবার।
ড. ইকবালকে দিকে এগিয়ে আসে তার তরুণ সহকারীটি। ছেলেটির নাম রৌদ্র। -প্রথমবারে বিশেষভাবে এগুলোই প্যাক করা হয়েছে, স্যার। -আচ্ছা আচ্ছা। ড. ইকবাল মাথা নাড়েন। খুশি বা দুঃখ কোনটাই তার অভিব্যক্তিতে বোঝা যায়না। তরুণ হলেও বেশ অনেকদিন ড. ইকবালের সঙ্গে আছে রৌদ্র। সেও জানে কাজ শেষ হলে সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার চাইতে নতুন কোন কাজে মাথা ঘামাতেই বেশি পছন্দ করেন ডক্টর।
হালকা শব্দে বেজে ওঠে রৌদ্রের ফোন। ব্যস্ত হয়ে ওঠে সে। গোটা সেকেন্ড দশেক কানে ফোন ঠেকিয়ে রাখে কিছুটা সন্ত্রস্ত হয়ে। তারপর ড. ইকবালের দিকে ফেরে।
-স্যার আপনাকে ম্যানেজার স্যার একটু যেতে বলেছেন। -নিজামী সাহেব? -জ্বি, স্যার। -আচ্ছা চলো দেখি।
(২) অনেকগুলো লম্বা করিডোর পেরিয়ে যেতে হয় পুরো ল্যাবরেটরিটির ম্যানেজার নিজামী মইত্যার রুমে। নিজামী অবশ্য বিজ্ঞানের কেউ নন। কোম্পানীর পক্ষে কেবল ল্যাবরেটরিটির ম্যানেজমেন্টের দ্বায়িত্বে আছেন। এখানে তিনি কোম্পানীর মুখপাত্র। ড. ইকবালকে তাই কাজ ফেলে যেতেই হয়। নিজামী মইত্যা'র রুমের ভেতরে ঢুকতেই ড. ইকবালের ভ্রু কুঁচকে ওঠে। অনেক আগে বোধহয় একবার তিনি এসেছিলেন এই রুমে। সেসময় অন্য কেউ দ্বায়িত্বে ছিল। এবার রুমের চেহারাটাই বদলে গেছে। নিজামী মইত্যা অবশ্য অনেকদিন এই দ্বায়িত্বে আছেন। কিন্তু তার সঙ্গে অন্তত তার অফিসে এসে ডক্টর ইকবালের দেখা করা হয়নি। ডক্টরের কুঁচকানো ভ্রু দেখেই বোধহয় টিভি'টা বন্ধ করে দেন নিজামী মইত্যা। তার চোখে খুশির ঝিলিক। চেয়ার থেকে উঠে পড়েন তিনি। ড. ইকবালের হাত থেকে অন্নে'র প্যাকেটটা নিয়ে দেখতে থাকেন। ভুলে প্যাকেটটা রেখে আসেননি ডক্টর। হাতে নিয়ে দেখছিলেন, সেই অবস্থাতেই চলে এসছেন।
-একটা প্যাকেট আমি আমার পিয়নটাকে আনতে বলতামই। আপনি যখন নিয়ে এসেছেন, তখন পরিশ্রম কমল।
অফিসের চাইতে মিঃ মইত্যা'র রুমটি শোবার ঘরের মতো মনে হয় বেশি। এমনকি একপাশে ছোট্ট একটা কিচেনও আছে। প্যাকেটটাকে তিনি সেখানেই ওভেনে ঢুকিয়ে দেন। তারপর ওভেনে এক মিনিটের বোতাম টিপে দিয়ে ড. ইকবালের দিকে ফেরেন।
- একমিনিট গরম করলেই তো চলে না? - হ্যাঁ। কিন্তু আপনাকে খাওয়ানোর চাইতে আমার গবেষনা জরুরি। আমি ভয়ানক ব্যস্ত। খাবারের এই প্রোজেক্ট শেষ হয়েছে। এখন আপনারা এটা নিয়ে কি করবেন আপনাদের ইচ্ছা। আমাকে আমার নতুন প্রোজেক্টে কাজ করতে হবে। আমাকে কি আপনি আসতে বলেছেন? - আপনাকে আর কোন প্রোজেক্টেই কাজ করতে হবেনা ড. ইকবাল। আপনাকে এই কোম্পানি থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। নিজামী মইত্যা'র কন্ঠে খুশির রেশ কিছুটা যেন বেড়ে যায় কথাগুলো বলতে গিয়ে।
চাকরি হারানোর শোকে নয়, বরং অনেকটা হিসেব মিলাতে না পেরেই কিছুটা বোবার মত হয়ে যান ড. ইকবাল। ওভেন থেকে পিঁপ পিঁপ করে সংকেত আসে। মইত্যা অন্নে'র প্যাকেটটি বের করে একপাশ থেকে ছিঁড়ে ফেলেন। খাবারের গন্ধে সারাঘর ভরে ওঠে। গন্ধটা যেন একটু অপরিচিত, একটু অন্যরকম লাগে ড. ইকবালের কাছে। আয়েশী ভঙ্গিতে কামড় বসিয়ে খাবার মুখে নিয়েই কথা বলতে থাকেন মইত্যা।
- আপনার সংগে আমাদের কি শর্ত ছিল তা আপনার ভুলে যাওয়ার কথা নয়। কথা ছিল, আপনাকে গবেষনা করার সব সুযোগ দেয়া হবে আর আপনার আবিষ্কৃত সব পণ্যের মালিক হবে এই কোম্পানি। যতদিন এই কোম্পানির হয়ে কাজ করবেন ততদিন আপনি পাবেন আপনার আবিষ্কৃত সব পণ্য বিক্রীর লাভের চারভাগের একভাগ। দুঃখের বিষয় কোম্পানীর পরিক্ষাগারটি বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। তাই আপনাকেও আমাদের আর এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই।
- হাউ সিক্ ইউ আ। অনেকটা হিসহিস করে এই প্রথম কথা বলে ওঠে ড. ইকবালের সহকারি রৌদ্র। নিজামী মইত্যার অভিব্যক্তিতে কোন পরিবর্তন চোখে পড়েনা। পুরোদস্তুর ব্যবসায়ীদের মতই কথা বলে সে। 'দিস ইজ পিওর বিজনেস ইয়াংম্যান। এনড বাই দ্যা ওয়ে, যেহেতু তোমার কাজ ডক্টরকে সাহায্য করা তাই তোমার চাকরিটিও থাকছেনা।'
কামড়ে কামড়ে ততক্ষনে শেষ হয়ে এসেছে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন জীবিত ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি নিজামী মইত্যা'র হাতের অন্নে'র টুকরাটি। ড. ইকবাল কোন কথা না বলে খুব সহজ ভঙ্গিতেই ফিরে চলেন। তবে তাঁর সহকারীটি সহজ থাকতে পারেনা। এখন কি হবে স্যার? অনেকটা কাতরভাবে সে জিজ্ঞেস করে ড. ইকবালকে। ড. ইকবাল সে কথার জবাব দেননা। বরং অনেকটা স্বগোতক্তির মত প্রশ্ন করেন, আচ্ছা, মিঃ নিজামীর অফিসে 'অন্ন' থেকে একটু অন্যরকম গন্ধ আসলো না?
(৩) ডক্টর ইকবালের মত নিরুত্তাপ থাকতে পারেনা তার তরুণ সহকারীটি। কথা বলার সময় চাপা থাকেনা তার কন্ঠের উত্তেজিত ভাব।
- এখন কী করবেন স্যার? - বুঝতে পারছি না। কিছুদিন ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে আছে। ল্যাবরেটরির কথা ভুলে থাকব কিছুদিন। তারপর দেখা যাবে কী করি। বলেন ডক্টর ইকবাল। - কিন্তু 'অন্ন'? এক শব্দেই অনেকগুলো প্রশ্ন আর সন্দেহ ছুঁড়ে দেয় ডক্টরের দিকে। - আমার মনে হয়না 'অন্ন' আর আমার আবিষ্কার আছে। আমার বিশ্বাস মিঃ নিজামী মইত্যা অথবা কোম্পানিরই অন্য কেউ আমার আগেই এটার পেটেন্ট নিয়ে নিয়েছেন। তবে তুমি চিন্তা করোনা। এই বিষয়টিতেই আরো কাজ করার সুযোগ আছে। ভালো ল্যাবরেটরির সাপোর্ট পেলে আরো ভালো 'অন্ন' বানানো যাবে। তুমি বরং আমার কাগজপত্রগুলো গুছিয়ে নাও। এখানে আর থাকতে চাইছি না।
(৪) ড. ইকবালের ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে আসে রৌদ্র। শেষবারের মতো দীর্ঘদিনে চেনা নিজের রুমটির দিকে তাকান তিনি। ল্যাবরেটরির চেনা মনুষদের কাছে বিদায় নেয়ার কখা মনে হয় তার। দরোজা পেরিয়ে তিনি সেদিকে আগান। বিকালের দৈনন্দিন কাজ চলছে তখন। কিছু কাঁচের ফ্লাস্ক অটোক্লেভ থেকে বের করে রাখা ওয়াটার বাথ-এ। মিডিয়া বানানো হয়েছে। সবগুলোর গায়ে সাদা অটোক্লেভ টেপ। হঠাৎ করে সেখানেই চোখ আটকে যায় তাঁর। পাশের কর্মীটিকে ডাকেন তিনি।
- এই অটোক্লেভ টেপগুলো সাদা কেন? ডক্টর ইকবাল জিজ্ঞাসা করেন।
কর্মীটি অনেকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। তার চোখ দেখেই বোঝা যায় যে সে নিজেও একক্ষণ লক্ষ্য করেনি এই ব্যপারটি। তবে সে সৎ থাকে। সত্য কথাটাই বলে সে। এবার চিন্তিত হতে দেখা যায় ডঃ ইকবালকে ।
- তুমি বুঝতে পারছ, এটা কত ভয়ঙ্কর একটা ব্যপার? অটোক্লেভ টেপ সাদা থাকা মানে ঠিকমতো অটোক্লেভ হয়নি! তারমানে যেসব জিনিস জীবানুমুক্ত করতে দেয়া হয়েছিল সেগুলো জীবানুমুক্ত হয়নি! এটা শুধু আজকেই ঘটেছে, নাকি আগে থেকেই তুমি ব্যপারটি লক্ষ্য করছনা?
কর্মিটিকে এবার অনেকটা আতঙ্কিত দেখায়। সে জানে না কবে থেকে এরকম হচ্ছে। সে নির্দিষ্ট সময় অটোক্লেভে রেখে অভ্যস্থ। কিন্তু অটোক্লেভ টেপটিতে কালো দাগ পড়েছে কিনা সে দেখে না। সাধারণভাবে তা দেখার দরকার হয়না। তবে দেখাটা নিয়ম। কোনকারণে যদি জিনিসপত্র জীবানুমুক্ত করার এই যন্ত্রটি ঠিকমতো কাজ না করে থাকে, তাহলে?
ডক্টর ইকবালকে খুব চিন্তিত দেখায়। গত কয়েকদিন তিনি ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন। মাঝে একদিন কেবল শেষবারের মত 'অন্ন' তৈরি করেছেন অফিসিয়াল অনুরোধে। অটোক্লেভের এই সমস্য যদি আগেই হয়ে থাকে তবে অনেক রকম সমস্যাই হতে পারে। হঠাৎ করেই তাকে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠতে দেখা যায়। অন্নে'র একটা প্যাকেট খুলে সেটাকে টুকরো করে টেস্ট টিউবে নেন তিনি। মিনিট খানে 'ভরটেক্স' করতেই টেস্ট টিউবের তরলের সঙ্গে মিশে যায় সেগুলো। 'পিসিআর কিট' বের করে তিনি ঝটপট কাজ করতে থাকেন। ঘন্টা তিনেক পর 'জেল ইলেক্ট্রোফোরেসিসের জেলির মতো পদার্থটি ইউভি ট্রন্সইল্যুমিনেটরে রেখে যখন তিনি যন্ত্রটির সুইচ টিপবেন তখন রৌদ্র স্পষ্ট দেখতে পেল ডক্টরের হাত কাঁপছে।
সুইচ টিপতেই পলকে প্রাণ পায় ইউভি ট্রান্সইল্যুমিনেটর। হালকা নীল আলোর মধ্যে হলুদাভ দাগ ফুটে ওঠে যন্ত্রে রাখা স্বচ্ছ জেলির মধ্যে। ঠিক যেন বিশ্বাস করতে পারেন না ডক্টর ইকবাল। ঝটপট একটা ছবি টেনে নিয়ে সেটার সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হতে চান। এবার রৌদ্রও বুঝতে পারে ডক্টরের জেলিতে ফুটে ওঠা দাগ আর ছবির দাগগুলো একই রকম।
(৫) এম্বুলেন্সটা যখন ল্যারেটরির বিশাল চত্বর ছেড়ে বেরোচ্ছে তখন ডক্টর ইকবালও নিজের গাড়িতে উঠছেন। ল্যাবরেটরির দরোজা থেকে দুটি গাড়ি দু'দিকে ঘুরে যায়। রৌদ্র আর কৌতুহল দমিয়ে না রাখতে পেরে বলেই ফেলে, - স্যার, আমি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারিনি। - আমি আসলে একটা ভাইরাস নিয়ে কাজ করছিলাম। একনাগাড়ে বলে যেতে থাকেন ডক্টর ইকবাল। জানোই তো, ভাইরাসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে বিশেষ কোন জিন প্রবেশ করিয়ে দেয়া যায়। ব্যাকটেরিয়াকে বিশেষ কোন ক্ষমতা দেয়ার এটা একটা দারুণ পদ্ধতি। আমি কেবল পরীক্ষা করার জন্যেই কিছু ভাইরাসে পরিবর্তন এনেছিলাম। তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম তীব্র ডায়রিয়া সৃষ্টিকারি জিনগুলো। সেই ভাইরাসগুলো কোনভাবে অন্ন-তে সংক্রামিত হয়েছে। আর ভাইরাসের মাধ্যমে ক্ষতিকর এই জিনগুলোর মালিকও হয়ে গেছে অন্ন-তে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো। মানে অন্ন এখন বিষের মত। একটা প্যাকেটের একহাজার ভাগের ভাগের একভাগ পরিমান অন্ন-তে যতগুলো ব্যাকটেরিয়া থাকে সেটুকুই দশটা মানুষকে দুইঘন্টার মধ্যে মেরে ফেলতে পারে শরীরে পানিস্বল্পতা সৃষ্টি করে। অটোক্লেভ মেশিন নষ্ট থাকলে সংক্রমনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমার সন্দেহটাই সেজন্য হয়েছিল। আর তাছাড়া মিঃ নিজামী মইত্যার রুমে আমি অন্ন থেকে কিছুটা অন্যরকম গন্ধ পেয়েছি। সত্যিই সংক্রমন হয়েছে কিনা বোঝার জন্য তাই এতটা সময় ব্যয় করলাম। বোধহয় নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য থামেন ডক্টর ইকবাল। একমূহুর্ত পর আবার শুরু করেন। "রৌদ্র, তুমি অবশ্যই কাল সকালে সবার আগে নিশ্চিত করবে এই ব্যপারটা যেন ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ জানে আর অন্ন'র বাকি প্যাকেটগুলো যেন কোম্ম্পানির কর্তদের মিটিংয়ে পাঠানো না হয়। যত দ্রুত সম্ভব যেন নষ্ট করে ফেলা হয় ওগুলো।"
ডক্টরের শেষ কথায় এই প্রথম নড়ে ওঠে রৌদ্র। হাতে থাকা ছোট্ট নোটবুকটি খোলে। এখানেই সে রোজকার কাজের তালিকা লিখে রাখে। ডক্টরকে একটু আড়াল করেই সে পরবর্তী দিনের পাতায় লিখতে থাকে,
"সকাল থেকে সারাদিন পৃথী'র সঙ্গে বই মেলায় ঘুরবো।"
২০১০-০২-১২ শুক্রবার সচলায়তনে প্রকাশিত

কোন মন্তব্য নেই: