শনিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০১১

খুদাপেজ মেহেরজান (আপডেটেড)

মেহেরজান সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি অনিন্দ্য'দার লেখায়। খুব অসহায় লেগেছিল সত্যি। কুৎসিত মানসিকতাকে একটা শৈল্পিক মোড়কে ভরে সাধারণকে খাইয়ে দেয়ার কী নোংরা চেষ্টা মেহেরজান! আমি ভরসা হারাতে চাইনা। কিন্তু যখন দেখি, 'তো কী হয়েছে!' অথবা 'আমার খারাপ কিছু মনে হয়নি বরং ভালই লেগেছে' ধরনের মন্তব্যকারী দর্শকই বেশি তখন আশাহত না হয়ে আর উপায় থাকে না। আহা! লোকে এত অকৃতজ্ঞ কিভাবে হয়! এত নোংরা এত কুৎসিত এত অমানুষ লোকে কিভাবে হয়!

মেহেরজান নিয়ে আমার কিছু লেখার নেই। অন্তত নতুন কিছু নয়। এই লেখাটি লিখছি কেবল কিছু তথ্য একসঙ্গে রাখার জন্য।
প্রথম লেখাটা অনিন্দ্য'দার, মেহেরজান: পাকিসঙ্গমের ফোকফ্যান্টাসি
মেহেরজান কেন বর্জন করতে হবে তা লিখেছিলেন আনন্দী কল্যাণ। লিখেছিলেন বর্জন করুন মেহেরজান
প্রথম আলো'র সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষন বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল! কেবল এইটুকু জানলে তাকে শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে করে! কী অদ্ভুত, বাম আন্দোলনে বিশ্বাসী বলে দাবী করা এই লোকটি কত সহজে বিক্রী হয়ে গেল পাকিপ্রেমীদের কাছে (কী জানি, তার স্ত্রী এই চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক বলেই কিনা)! হিমু ভাই এই নোংরা সাংবাদিকের লেখার জবাব দিয়েছেন। লিখেছেন, বাঘাদা, হীরা কত নিলে শুনি?
মেহেরজান চলচ্চিত্রের চমৎকার একটি রিভিউ লিখেছেন বুনোহাঁস: মেহেরজান- যা দেখলাম
বীরাঙ্গনাদের উপর পড়াশোনা করেছে বলে দাবী করেছে মেহেরজানের পরিচালক রুবাইয়াত। তার মাস্টার্স থিসিস নাকি বীরাঙ্গনাদের বিষয়ে লেখা। সেটা পড়ে দেখা গেল সে তথ্য বিকৃত করেছে। গবেষণা প্রবন্ধে ভুল তথ্য দেয়া কী রকমের অপরাধ সেটা তার জানা থাকার কথা। শুভাশীষ'দা তার রুবাইয়াত হোসেনের মিথ্যাচার লেখায় পরিচালকের তথ্য চুরির একটা অংশ তুলে ধরেছেন। বাকি অংশ আসছে শীঘ্রই...
মেহেরজান-এর আরেকটি চমৎকার রিভিউ লিখেছেন নাদির জুনাইদ। তার লেখা: মেহেরজান: একটি ভুল ও ভিত্তিহীনতার কাহিনী
৫ ফেব্রুয়ারি পরিচালকের বক্তব্যসহ একটি খবর প্রকাশিত হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম এ। খবরটির লিঙ্ক এখানে। এই খবরে পরিচালকের মন্তব্যের জবাব দিয়ে আরোকিছু বিশ্লেষণ সহ শুভাশীষ দা (শুভাশীষ দাশ) লিখেছেন রুবাইয়াত কথিত সুসমাচার। এই লেখাটির আগে শুভাশীষ দা আরেকটি সমালোচনা লিখেছিলেন শেষ রজনী সিনেপ্লেক্সে-১ নামে। এই লেখাটিতে তিনি সমালোচনা করেছেন নোংরা বুদ্ধিজীবী আর সাংবাদিকদেরও। 
বিনির্মাণের চাতুরি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুনপাঠ লেখাটিতে হাসিব ভাই সমালোচনা করেছেন আসিফ সালেহ এবং ফাহমিদুল হকের।
শুভাশীষ দা'র টুকুন গল্পে তিনি নোংরা বুদ্ধিজীবীদের কথার ব্যবচ্ছেদ করেছেন অন্যরকমভাবে। তাঁর এই গল্প-ব্লগটির নাম ডিসকোর্স
অনিন্দ্য দা (অনিন্দ্য রহমান) তাঁর আজাইরা দেরিদা লেখায় সমালোচনা করেছেন মেহেরজান চলচ্চিত্রের ওয়েবসাইটের ভাষ্য সহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে।
যাঁরা মনে করছে মেহেরজানের মত করে ভাবা যেতে পারে তাদের জবাব দিয়ে হিমু ভাই লিখেছেন পুনর্মাশুকভব নামের এই অসাধারণ গল্পটা।
মেহেরজান সিনেমার পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত নায়ক ওমর রহিম তার ওয়েবসাইটে বলছে এই সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে সত্য কাহিনী অবলম্বনে!

মেহেরজান চলচ্চিত্র মোটেই নিষিদ্ধ হয়নি। দর্শক এটিকে বর্জন করেছে। পরিবেশকের উপর 'উপর মহলের চাপ' কথাটিও সত্যি নয়। পরিবেশক নিজে সেরকম কিছু দাবী করেননি। মেহেরজান চলচ্চিত্রটিকে একটা 'নিষিদ্ধ' ট্যাগ দিয়ে ভিন্নমাত্রায় প্রচারের চেষ্টার জবাব দিয়ে লিখেছেন নজরুল ভাই (নজরুল ইসলাম)। তাঁর লেখা মেহেরজান কেন ''নিষিদ্ধ''?
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সমীপেষু লেখাটিতে শুভাশীষ দা কথা বলেছেন মেহেরজান চলচ্চিত্রের পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের মিথ্যাচার নিয়ে।

মেহেরজান সম্পর্কিত আরো তথ্য:
পরিচালক: রুবাইয়াত হোসেন (যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের মেয়ে)!
কাহিনী: রুবাইয়াত হোসেন।
চিত্রনাট্যকার: এবাদুর রহমান এবং রুবাইয়াত হোসেন। বাংলা মিডিয়াতে ডিজুস ভাষার প্লেগ ঢোকানোর পেছনে সবার আগে এই এবাদুর রহমানের নোংরা হাত ছিল। এবাদুর রহমানের জন্ম ২৫ মে ১৯৭৩ পাকিস্তানের করাচিতে। তার লেখা থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব সে স্বীকার করেনা!

প্রযোজক: আশিক মোস্তফা (সিনেমার পরিচালক তার স্ত্রী, চিত্রনাট্যকার তার বন্ধু)

মেহেরজান হলগুলো থেকে নেমে গেছে। ভালো লাগলো এই খবরটা শুনে। পাকিপ্রেমীদের নিয়ে একটা ব্লগ লেকার দরকার। সেটা খুব দ্রুত লেখার আশা করি। আর মেহেরজান সম্পর্কে নতুন তথ্য পেলে এখানে জুড়ে দেব।

আপাতত, খুদাপেজ মেহেরজান।

২টি মন্তব্য:

অন্দ্রিলা বলেছেন...

চাইর নাম্বার জঘন্যটা আমার। খেকখেকখেক।

অনার্য সঙ্গীত বলেছেন...

হা হা হা :))
তিন নম্বরটা ছিল জিহাদ ভাইয়ের! প্রথম দুইজনকে উৎসাহ দিতে উনি ওইটা দিছিলেন :))
লিঙ্কটা দিয়ে ভালো করেছ।এই লেখাটাকে আপডেট করা হচ্ছিল না। আজই করে ফেলব দেখি।
আর অবশ্যই, সুন্দরী পাঠিকাদের 'জঘন্য' এই ব্লগে সাদরে গৃহীত হয় ;) :D