মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

টুকরো টুকরো দিন: রোদ্দুরের পাহাড়

সকালে উঠে দেখি ঝলমলে রোদ্দুর। ঠান্ডার দেশে রোদ্দুর দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। অনেকগুলো কাজ ছিল। গুছিয়ে উঠে পেটপূজা করতে করতে দুপুর শেষের পথে। এককাপ কফি নিয়ে বারান্দায় দাঁড়াবার যে ইচ্ছেটা সকাল থেকে চাপা দিয়ে রেখেছিলাম সেটাকে আর চেপে রাখা গেল না। কী ভেবে বারান্দা দিয়ে কয়েকটা ছবিও তুলে ফেললাম পাহাড়ের। পাহাড়ের সঙ্গে কোন মিল আছে কিনা জানিনা, কিন্তু ঠাস করে আবুল হাসানের একটা কবিতা মনে পড়ে গেল,
অতটুকু চায়নি বালিকা !
অত হৈ রৈ লোক, অত ভীড়, অত সমাগম !
চেয়েছিলো আরো কিছু কম !
একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিলো
একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী !
[নিঃসঙ্গতা/আবুল হাসান]

বারান্দা দিয়ে বামে তাকালে দেখা যায় এই পাহাড়গুলো
এই পাহাড়গুলোর খানিকটা পাতাঝরা গাছে ছাওয়া, খানিকটা চিরহরিৎ




ছায়ায় ঢেকে গেছে সামনের একটুকরো মাঠ, পাহাড়ের সারিতে এখনো রোদের চমক



















































ইয়েনা শহরটা একটা উপত্যকায় গড়ে উঠেছে। চারদিক পাহাড় দিয়ে ঘেরা। একটুখানি শহর। সব মিলিয়ে লাখখানেক লোক থাকে বোধহয় এখানে। এক তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী। একটা অংশ পর্যটক। সবমিলিয়ে দারুণ। রাত জাগার অভ্যেস আছে বলে প্রায়শই মাঝরাতে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ানো হয় আমার। তখন শুনতে পাই পাহাড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। ঠিক করেছি ঠান্ডা খানিকটা কমলে রোজ রোজ খাবারের একটা ঝোলা আর কফির ফ্লাক্স নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে যাব। খুঁজেপেতে আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা করতে পারলে খালি কফির টিন নিয়েও যাওয়া যায়। এখানে পাহাড়ে বনে আগুন জ্বালানো নিষেধ কিনা কে জানে! জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে কাউকে।

গত সপ্তাহ বেশ ঝড়ের মধ্যে গেল। সারামাস ধরে ল্যাবে কী ঘন্টা করলাম তা নিয়ে প্রফেসরের সঙ্গে আধা-ফরমাল একটা আড্ডা হয়ে গেল শনিবারে। ওইদিনই আবারো বুঝতে পারলাম আবিষ্কারকের সামনে তাঁরই আবিষ্কার নিয়ে প্যাঁচাল পাড়ার চাইতে অসহায় মুহূর্ত আর হয়না। মার সঙ্গে মামার বাড়ির গল্প করা এরচাইতে অনেক ভালো। প্রফেসর নিতান্ত ভদ্রলোকের পরাকাষ্ঠা বলে টিকে গেছি!

এই সেমেস্টারটা শেষ হলো বলে। একটামাত্র বিষয় পছন্দ করে নিয়ে বাকি সব ছেড়েছুড়ে দেশান্তরী হওয়ার সময় আসছে। খুবই মনোকষ্টে আছি। হাজারখানেক বিষয় আমার পছন্দ। কিন্তু যেতে হবে একদিকেই। ব্যাকটেরিয়া ছত্রাকের 'সেকেন্ডারি মেটাবোলাইটস' বিষয়টা বেশ টানছে। কিন্তু ওদিকে গেলেই বাদ পড়ে যাবে আমার প্রিয় প্রিয় আর সব বিষয়। মানুষের রক্ষীকোষগুলো নিয়ে জানতে খুবই আগ্রহ বোধ করি, আগ্রহ আছে ভাইরাসে, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ায়, আরো যে কতকিছুতে! আফসোস, সব বিষয়ে একসঙ্গে বিদ্যার জাহাজ হওয়া কোনো উপায় নেই। ভেবেছি যদি আবার জন্মাই তাহলে পরেরবার ইমিউনোলজিতে পড়ব। উপসালাতে মহুয়া বোধহয় ক্যান্সারের উপর পড়বে। ক্যান্সারের ব্যাপারটা তাহলে এই জন্মেই ওর কাছ থেকে খানিকটা জেনে নেয়া যাবে!

শুক্রবারে একটা পরীক্ষা আছে। পড়াশোনা করা দরকার। অথচ বসে গেলাম ব্লগ লিখতে! সামনে লম্বা একটা ছুটি পাচ্ছি। এই ছুটিতে লিখে একেবারে দুনিয়া কাঁপিয়ে দেব ভেবেছি। ছুটিতে অবশ্য কোন কাজই ঠিকঠাক হয়না। কাজের সময়েই নাকমুখ চেপে সব একসঙ্গে করা হয়। আমার মত এইরকম ভয়ঙ্কর অলস কাউকে দিয়ে কিছুই হবেনা :(

টুকরো টুকরো দিন সবসময় ফাঁকিবাজি ব্লগ হয়। এটাসেটা দিয়ে পাতা ভরে সাততাড়াতাড়ি কাজে যাওয়ার চেষ্টা! আজকে অবশ্য এটাসেটা দিয়ে পাতা ভরছি না। নির্মলেন্দু গুণের বিরহ মার্কা একটা কবিতার একেবারে অর্ধেকটা তুলে দিচ্ছি রণ'দার ব্লগ থেকে এনে... :)

...সুখের সামান্য নিচে কেটে ফেলা যন্ত্রণার কবন্ধ-প্রেমিক,
ওখানে কী খোঁজ তুমি? ওটা কিছু নয়, ওটা দুঃখ;
রমণীর ভালোবাসা না-পাওয়ার চিহ্ন বুকে নিয়ে ওটা নদী,
নীল হয়ে জমে আছে ঘাসে,-এর ঠিক ডানপাশে, অইখানে
হাত দাও, হ্যাঁ, ওটা বুক, অইখানে হাত রাখো, ওটাই হৃদয়।

অইখানে থাকে প্রেম, থাকে স্মৃতি, থাকে সুখ, প্রেমের সিম্ফনি;
অই বুকে প্রেম ছিল, স্মৃতি ছিল, সব ছিল, তুমিই থাকো নি। 
[ওটা কিছু নয়/নির্মলেন্দু গুণ]

৬টি মন্তব্য:

অন্দ্রিলা বলেছেন...

এতো কবিতা পড়তেসো কেন?

পাহাড় আমার ফেভারিট। বেশি সুন্দর একটা জায়গাতে থাকো। হিংসা লাগতেসে।

কাজবাজের কথা কম কম লিখো। যারা নিজেদের কাজ এনজয় করে আমি তাদেরকে হেইট করি।

আর এতো ব্লগ লিখো ক্যান? কাজবাজ নাই?

অনার্য সঙ্গীত বলেছেন...

কবিতা না পড়ে মানুষ বাঁচে কেম্নে :S হুমায়ূন আজাদ স্যার কী বলেছিলেন মনে আছে? বলেছিলেন, কবিতা ছাড়া পাকিস্তানিরা বাঁচে, ওরা বাঁচে মানুষের রক্ত খেয়ে!

হা হা হা আসলেই খুব সুন্দর জায়গায় থাকি। তার উপরে প্রিয় ল্যাবে কাজ। নিজেকেই মাঝে মধ্যে হিংসা হয় :)
ল্যাব করা আর ব্লগ লেখা ছাড়া আপাতত কোন কাজ নাই। সামনের ছুটিতে ল্যাব থাকবে না, তখন কেবল ব্লগই লিখব :))

বোহেমিয়ান বলেছেন...

হাসান আর গুণ দুজনেই প্রিয়!

তুমুল ব্লগিং এর সময় শুনে হিংসিত!!

অনার্য সঙ্গীত বলেছেন...

হাসান আর গুণ আমারও ভয়ঙ্কর প্রিয়...

আহা, ছুটিছাটা নিশ্চই আপনারও মিলবে কাছেপিঠে :)

তারেক বলেছেন...

এত ভালো লিখিস ক্যাম্নে? হিংসা লাগে!
গুণের কবিতাটা অশ্লীল। তাই ভালো লাগসে। লিখ লিখ। লিখতে লিখতে মরে যা।

অনার্য সঙ্গীত বলেছেন...

ভালো লেখার জন্য তুই হিংসা করিস আমাকে! বাহ! তোর বিনয় তো বলিহারি!!!
:)) গুণের এই কবিতাটা মোটেই অশ্লীল না! তোর মত অশ্লীল কবিরা এর অশ্লীল মানে বের করছে!
হুঁ, লিখতে লিখতেই মরব। না লেখা পর্যন্ত মরবনা কসম!