বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১১

উৎসব

সতর্কতা: লেখাটিতে নৃশংসতার বর্ণনা রয়েছে।  লেখাটি শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।


আমার বোন খুব হতভম্ব হয়ে যায় প্রথমে।

কী হচ্ছে বুঝতে পেরে যতক্ষণে সে 'না' 'না' বলে চিৎকার করতে শুরু করে ততক্ষণে তাকে গাড়িতে তুলে ফেলা হয়েছে। তবে সে তার দু'বছরের মেয়েটিকে ছাড়েনি। বুকের সঙ্গে চেপে ধরে আছে জোরে। মেয়েটি ব্যাথা পাচ্ছে। কাঁদতে শুরু করেছে। মেয়েটি যত কাঁদছে আমার বোন তত জোরে তাকে বুকের মধ্যে নেয়ার চেষ্টা করছে। সম্ভব হলে সে শিশুটিকে পাঁজরের ভেতর ঢুকিয়ে নেয়।

মাঠে আমার বোনকে বেঁধে রাখা হয়েছে। একজন দূর থেকে বেয়নেটের ডগা দিয়ে ব্লাউজটা ছিঁড়তে গিয়ে তার বুকের অনেকখানি মাংস উঠিয়ে ফেলেছে। তবে সেদিকে আমার বোনের খেয়াল নেই। সে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে সামনে। বড় অফিসার ওর মেয়েটিকে একহাত দিয়ে উঠিয়ে ধরে খুব বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে। এতটুকু বাচ্চা কোনো কাজের না! অন্তত বছর চার পাঁচ বয়স হতে হয়। মেয়েটির আরেকটু বড় হয়ে যাওয়া উচিত ছিল।

"ইসকা তো কই ফোকর ভী নেহি হে!" খুব বিরক্তি নিয়ে অফিসারটি বলে। বিরক্তি রাগে পরিণত হতে সময় লাগে না তার। "রুখ! ইসকা ফোকর হাম বানাতাহে..."। কোমরের খাপ থেকে ছুরিটা বের করে নেয় অফিসার। কমাণ্ডো ছুরি। একদিক ধারালো আরেকদিকে খাঁজকাটা। দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ নিয়েছে সে এই ছুরি ব্যবহারের। বিচ্যুত হবার প্রশ্নই ওঠে না। এক হাত দিয়ে মেয়েটিকে ঝুলিয়ে রেখে আরেক হাত দিয়ে ছুরিটা ঘ্যাচ করে শিশুটির যৌনাঙ্গে ঢুকিয়ে দেয় অফিসার। একসঙ্গে জ্ঞান হারায় আমার বোন আর তার মেয়েটি। বড় অফিসার থামে না। কয়েকটা মোচড় দিয়ে ছুরিটা বের করে আনে। মেয়েটার নাড়ি ভুঁড়ি বের হয়ে আসে তার ছুরির সঙ্গে সঙ্গে। গায়ে রক্ত লেগে যাবার ভয়ে দেহটিকে ছুঁড়ে দেয় অফিসার। নজর দেয় আমার জ্ঞানহীন বোনের দিকে।

আমার বোন তখন বস্ত্রহীন। গনিমতের মেয়েগুলোকে পেলে কাপড় খুলে নেয়ার কাজটি সবার আগে করা হয়। নাহলে শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে এগুলো মরে যাবার চেষ্টা করে। লম্বা চুল থাকলে তাও কেটে ফেলতে হয়। নাহলে গলায় চুল পেঁচিয়েও মরতে চায় অনেকে। অন্যায় ভাবে আত্মহত্যা করতে চায় গাদ্দারের জাত।
 ... ... ...

সারা রাতে কয়েকবার জ্ঞান ফেরে আমার বোনের। ব্যারাকে জওয়ান বেশী হওয়ায় পালা শেষ হয় না। ৮০ টা জওয়ানের জন্য অন্তত গোটাবিশেক মেয়ে দরকার হয়। মাঝে মধ্যে তা জোগাড় করা না গেলে অবশ্য একটাতেই কাজ চালিয়ে নেয় তারা। সংঘবদ্ধভাবে চলতে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগায়। আজকে যেমন সবাই ভাগে পায় আমার বোনকে। যতক্ষণ জ্ঞান ছিল ততক্ষণ আমার বোন চিৎকার করছিল। প্রথম দিকে আতঙ্কে, অপমানে আর লজ্জায়। পরেরবার তালগোল পাকানো মাংসপিণ্ডের মত তার বাচ্চাটার মৃতদেহ দেখে। তীব্র চিৎকারে এই সময়ে তার কণ্ঠনালী ছিঁড়ে গেলে সেটা দিয়ে আর শব্দ বেরোয় না। শব্দ না বেরোলেও চিৎকারের চেষ্টা অবশ্য থামেনা আমার বোনের। সেই চেষ্টায় পরের দিকে ফ্যাসফ্যাসে বাতাসের সঙ্গে তার গলা দিয়ে বেরোতে থাকে ছিটে ছিটে রক্ত।

তার যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে মধ্য রাতেই। প্রথম ৩০/৪০ জনের পর শরীরের ওই অংশটা কিমা করা মাংসের মত হয়ে যায়। পরের দিকের সব জওয়ানের নিম্নাঙ্গে আমার বোনের শরীরের বিন্দু বিন্দু মাংস লেগে থাকে। তাতে অবশ্য উদ্যম কমেনা জওয়ানদের। ওরা জানে, "খুন দেখকে খাড়া না হুয়া তো ও জওয়ান হি নেহি"!
... ... ...

সকালে তৃপ্ত জওয়ানেরা কয়েকজন দারুণ এক খেলায় মেতে ওঠে। বেয়নেট দিয়ে আমার বোনের বুকে চামড়া কেটে তাদের দেশের মানচিত্র আঁকতে চেষ্টা করে। জওয়ানেরা ভালো আঁকিয়ে নয় বলে মানচিত্র ভালো হয় না। কেবল মাংস উঠে উঠে যায়। একজন আবিষ্কার করে চাঁদতারা আঁকা সহজ। পরবর্তী কয়েক মিনিটে তাই আমার বোনের শরীর চাঁদ তারায় ছেয়ে যায়। আমার বোনটি অবশ্য তখনো মরে নি!

একটু পরে অফিসার এসে এতগুলো চাঁদ-তারা দেখে খুব খুশি হয়ে যায়। সবচে ভালো কে এঁকেছে সেটা হিসেব করে একটা পুরষ্কার ঘোষণা করার কথা বলে। আঁকার মত জায়গা আর প্রায় বাকি ছিলনা আমার বোনটার শরীরে। চারজনে তাড়াতাড়ি ভাগ করে নেয় তার দুহাত আর পায়ের তালু। একজন কপাল দখল করে বসে। বুকে তার আর মাংস নেই। হাড় বেরিয়ে গেছে কয়েক জায়গায়। পেটের উপরে একটুখানি ফাঁকা জায়গায় ছুরি ছোঁয়ায় এক জওয়ান। তার চোখে শিল্পের তৃষ্ণা।

গ্যালারিতে আমি হৈ হৈ করতে থাকি। সবুজ জমিনে চাঁদ-তারা আঁকা কাপড় উড়িয়ে উৎসাহ দেই। জওয়ানদের পৌরুষ আর শিল্পীমন দেখে আমার ছোটবোনটি তার বুকে 'ম্যারি মি জওয়ান' লিখে লাফাতে থাকে। জওয়ানের ছুরির ডগায় চাঁদ-তারা যত স্পষ্ট হয় ততই উৎসবের আমেজে নাচতে থাকি আমি...

সচলায়তনে প্রকাশিত