বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১১

সংবাদ ব্লগ: আমাদের অনলাইন দাবা টুর্নামেন্ট

এই লেখাটি সচলায়তনের জন্য লেখা। সচলায়তনের সব লেখা আমি নিজের ব্লগেও তুলে রাখি বলে এখানে দেয়া।

জাহিদ ভাইয়ের কাছ থেকে আচমকা আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম দাবা খেলার। উনি কানাডাতে থাকেন, আমি ইউরোপে। ইন্টারনেটের কল্যাণে দুরত্ব খুব সমস্যা করেনা। আন্তমহাদেশীয় দাবা খেলতে থাকি আমরা। টুকটাক খেলাতে আর কথাতে আমরা আবিষ্কার করি, দাবা খেলেন এরকম পরিচিতজনের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অনেকেই নিভৃতে দাবা খেলেন। অনেকেরই দারুণ পছন্দের খেলা এটি। আর সবার কথা জানিনা, আমি দল পাকাতে দারুণ পছন্দ করি। দল পাকাতে পারলেই হৈ-হুল্লোড় হয়, আড্ডা জমে ওঠে। সবাই মিলে খেলার ভাবনাটা মাথাচাড়া দেয় সেই ভাবনা থেকেই।

প্রথমবার খুব বড় আয়োজন করতে সাহস হয় না। তালগোল পাকিয়ে যাবার ভয় কাজ করে। ছোট্ট একটা নোটিশ দিয়ে শুরু করি আমরা।

অনলাইনে একটা দাবা টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে চাই, কে কে খেলতে চান?
নোটিশটা বোধহয় সবার নজরেও পড়েনা। প্রথমবার খেলতে আগ্রহী হন দশজন। খেলোয়াড়রা ছড়িয়ে থাকেন সারা পৃথিবীতে। টুর্নামেন্টের আয়োজনে সবচে বড় সমস্যাটা হয়ে দাঁড়ায় সময় মেলানো। একজন খেলোয়াড়ের যখন অবসর মেলে তখন আরেকজনের হয়তো মধ্যরাত। কেউ সময় বের করতে পারলে হয়তো তার প্রতিদ্বন্দীর জরুরী কাজ পড়ে যায়। আমাদের খেলতে হয় অফিস, পড়াশোনা, ল্যাব, সংসারের মত অনেক ঝামেলা বাঁচিয়ে। দেশে ইন্টারনেট আর বিদ্যুতের সঙ্গে তালমিলিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেন না অনেকেই। তারপরও আমরা খেলতে থাকি। অফিসের জরুরী কাজ এড়িয়ে, থিসিস লেখায় অনভিপ্রেত বিরতি দিয়ে, প্রেমিকা/সহধর্মিনীর অগ্নিদৃষ্টিতে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়েও যে যার মত সময় করে নেন সবাই। শুনেছি সচলের এক মডু মডারেশনে ফাঁকি দিয়ে খেলেছিলেন। মডুরা বহুরূপী হওয়ায় তাঁকে চিহ্নিত করা যায় নি।


খেলাগুলো হয়েছিল চেস.কম-এ। এই সাইটটির অনেকগুলো সুবিধা আমাদেরকে মুগ্ধ করে। ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত থাকায় জটিল 'সাইনইন' প্রকৃয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হয়না। নিয়মিত আপডেট পাওয়া যায়। যে কেউ খেলা দেখতে পারেন। ইচ্ছেমত পুরোনো চাল রিওয়াইন্ড করা যায়। খেলা মাঝপথে বিরতি দিয়ে অফলাইন হয়ে গেলেও সমস্যা নেই। খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে কথা (chatting) বলতে পারেন। দর্শকরা খেলায় মন্তব্য করতে পারেন। খেলোয়াড়দের ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলতে পারেন। চাইলে দাবার বোর্ড ব্যবহার করে চাল এঁকে বুঝিয়ে দিতে পারেন। খেলোয়াড়রা খেলার মাঝে দর্শকদের সেসব মন্তব্য দেখতে পান না। তাঁরা সেসব পড়তে পারেন খেলা শেষ হওয়ার পর।

কেবল অনলাইনে দাবার আয়োজন করতেই আমরা একটা গ্রুপ খুলে ফেলি ফেসবুকে। আমাদের আড্ডা জমে ওঠে। আমরা মনিটরের দিকে ঝিম মেরে বসে থাকি। প্রতিদ্বন্দীর ফন্দি ধরতে পেরে কুটিল হাসি দেই। অন্যেরা কমেন্ট করেন। টুকটাক জটিলতা এড়িয়ে, মহাদেশীয় খেলোয়াড়দের অংশগ্রহনে দারুণভাবেই শেষ হয় আমাদের অনলাইন দাবা টুর্নামেন্ট। প্রথম অনলাইন দাবা টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেন আমাদের তানিম ভাই এবং জাহিদ ভাই। চমকপ্রদ একটা খেলার শেষে বিজয়ী হন সচল জাহিদ। আমাদের জাহিদ ভাই।


এই সুযোগে অভিনন্দন জানিয়ে যাই আমাদের প্রথম অনলাইন দাবা টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন জাহিদ ভাইকে

মাথায় ঘিলু কম থাকায় আমি নিজে এবার বিশেষ সুবিধা করতে পারিনি। প্রথম থেকেই হেরে ভূত হয়েছি। (ভাবছি আর্মি জয়েন করব কিনা!) তবে আমি ছাড়ব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব দ্রুতই আরেকটা টুর্নামেন্টের আয়োজন করে একেবারে দেখিয়ে দেব সবাইকে। আমাদের সুহানও তার লাল প্যান্টটা পরে নাই বলে গত টুর্নামেন্টে একটুর জন্য বিজয়ী হতে পারেনি। পরবর্তী টুর্নামেন্টের জন্য শুনেছি সে তার 'লাল প্যান্ট' ধুয়ে শুকিয়ে ইস্ত্রি করতে দিয়েছে। তানিম ভাইকে কথা দিয়েছিলাম ফাইনালে তার পক্ষের চিয়ার গার্ল হিসেবে থাকবে ওনার পছন্দের পুনম পাণ্ডে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মৌলবাদীদের নানা ঝামেলা এড়িয়ে পুনম আসতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। তানিম ভাই তাই মনের দুঃখে ভুল চাল দিয়েছিলেন ফাইনালে...

প্রথম আয়োজন বলেই কিছুটা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আমরা পুনম পাণ্ডের উপস্থিতি আগে থেকেই নিশ্চিত করব। ধুগো'দা (ধুসর গোধূলি) গত টুর্নামেন্টে সূক্ষ্ম কারচুপি ধরতে পেরেছিলেন। এসব সূক্ষ্ম কারচুপিকে স্থুল করে তোলার জন্য এবার বিশেষ আম্পায়ার হিসেবে তিনি থাকবেন। খুব শীঘ্রই আমরা আমাদের পরবর্তী টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছি। যাঁরা খেলতে চান তাঁরা চটজলদি আমাদের গ্রুপে যোগ দিয়ে নাম নিবন্ধন করুন। খেলা কিভাবে কোথায় হবে সব সেখানেই পাওয়া যাবে। গ্রুপে যোগ দেয়ার আগে কেবল মনে রাখতে হবে এই গ্রুপটি শুধুমাত্র দাবার জন্যেই।

পরবর্তী টুর্নামেন্টে আপনারা অংশ নেবেন সেই আশায় রইলাম।

সচলায়তনে প্রকাশিত

কোন মন্তব্য নেই: