রবিবার, ৫ জুন, ২০১১

বিপথগামী ই কোলাই

কাগজের মতো এরকম চমৎকার একটা জিনিস খাওয়া যায় না কেন? অথবা পলিশ করা কাঠ? নারকেলের ছিবড়ে? পাটের শলা খাওয়া যায় না কেন?

ইট-লোহা খেতে না পারার স্পষ্ট কারণ আছে। ওতে শরীরের প্রয়াজনীয় পুষ্টি উপাদান নেই। কিন্তু কাগজ তো গাছ থেকে তৈরি। নারকেলের ছোবড়াও তো গাছেরই অংশ। এমন কি কাঠও! এই তিনটে জিনিসই শর্করায় একেবারে ঠাসা! তাহলে?

ব্যাপারটা বুঝতে গেলে আগে বুঝতে হবে রেলগাড়ি।
একটা রেলগাড়ি যদি জীবন্ত হয় আর তার নিরন্তর চলার জন্য রাস্তা থাকে তাহলে কী হবে? মনের সুখে সে কুউউউ ঝিক ঝিক করে বগল বাজাতে বাজাতে চলতে থাকবে। আর চলতে চলতে তার খিদেও পেয়ে যাবে ভয়ানক! তখন?

তখন সে আশে পাশে চেয়ে দেখবে পাশের রাস্তা দিয়ে মটরগাড়ি যায়। মোটরগাড়ির ট্যাঙ্কে আছে তেল। ওই তেলটুকু পেলে তার আরো খানিকক্ষণ চলার রসদ হয়। আর তাছাড়া ওই মটরগাড়ি বানানো হয়েছে লোহা দিয়ে। রেলের পুরোনো বগিগুলো কোথাও কোথাও ক্ষয়ে গেছে। মোটরগাড়ির লোহাটুকু হলে বগিগুলো ঠিক ঠাক করে নেয়া যায়। ট্রেন তখন টুপ করে মোটরগাড়িটা ধরে খেয়ে ফেলবে। ঠিক যেমন মানুষ মুরগির ঠ্যাং দিয়ে পোলাও খায়।

মুরগির ঠ্যাঙে থাকে প্রোটিন (আরো অনেক কিছু)। ওই ঠ্যাং মানুষের পেটে গেলে তার দফারফা করে দেয় একটা এনজাইম। প্রোটিনের জন্য এনজাইম বলে নাম প্রোটিয়েজ। এই এনজাইম প্রোটিনকে টুকরো টুকরো করে ফেলে। সেই টুকরো গুলো চলে যায় শরীরের কোষে কোষে। যে কোষের প্রোটিন দরকার সে প্রোটিন পায়। পোলাওয়ের ব্যবস্থাও এরকমই হয়। পোলাওয়ে থাকে শর্করা। শরীরের শক্তি তৈরির জন্য যে জ্বালানি দরকার, শর্করা তাদের মধ্য অন্যতম। শর্করা টুকরো করার প্রোটিন শর্করাকে ভেঙে শরীরের ব্যাবহারের উপযোগী বানিয়ে দেয়।

তো মূল ব্যাপারটা হচ্ছে এই, রাজা প্রসাদ বানাতে চায়। কিন্তু তার ইটের সংস্থান নেই। সে তখন মানুষের বাড়ি দখলে নেয়। দখল নেয়া আস্ত বাড়ি দিয়ে যেহেতু প্রসাদ হয় না। তাই রাজা সেইসব বাড়ি ভেঙে ভেঙে ইটগুলো আলাদা করে নিয়ে তা দিয়ে মনমতো প্রসাদ বানায়। উন্নত প্রাণিদের খাওয়া মানে ব্যাপারটা এই। ধরো, টুকরো করো এবং টুকরোগুলো নিজের কাজে লাগাও।

কাগজ অথবা কাঠ না খেতে পারার কারণ এখানে। কাগজ এবং কাঠে থাকে সেলুলোজ। সেলুলোজ ভেঙে টুকরো করতে যে এনজাইম দরকার সে মানুষের পেটে নেই! জবরদস্তি করে দিস্তে খানেক কাগজ খেয়ে ফেললেও তাই তা শরীরে কোনো কাজে লাগে না!

আমরা যে সবুজ সবজি খাই, তার বেলা? সবাই জানে, গাছের সবুজ পাতায় থাকে ক্লোরোফিল। মানুষের পেটে গিয়ে ক্লোরোফিল কী হয়? মানুষের তো আর পাতা নেই, তাই তার ক্লোরোফিলও নেই, ক্লোরোফিলের প্রয়োজনও তার নেই! (এই হিসেব মতে তার ক্লোরোফিল হজম করার মতো এনজাইমও থাকার কথা নয়!) তাহলে মানুষ কি ক্লোরোফিল হজম করতে পারে? এই প্রশ্নটা অনার্স ক্লাসের প্রথমদিকে একজন ম্যাডামকে করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, গাছের পাতায় ক্লোরোফিলের সঙ্গে সঙ্গে তো শর্করা, প্রোটিনের মতো উপাদানও থাকে, সেগুলো হজম হয়, শরীরের কাজে লাগে। ক্লোরোফিল হজম হয় না!

হয় না?

উহুঁ! হয়না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। হতেও পারে। অসংখ্য জিনিস আমরা খাই যা হজম করার মতো এনজাইম আমাদের শরীরে থাকে না। আমরা ওইসব এনজাইম বানাতে পারিনা। সেগুলো হজম করার অন্য উপায় আছে!

উদাহরণ দেই, রাজার প্রসাদ বানাতে ইটের দরকার। যেসব প্রজার ইটের বাড়ি আছে সেসব ভেঙে ইটের ব্যাবস্থা করতে পারেন রাজা। কিন্তু প্রসাদ বানাতে ইটের পাশাপাশি খানিকটা পাথরেরও দরকার হয়। পাথরের বাড়িওয়ালা প্রজা আছে রাজার। সেখান থেকে পাথরের ব্যাবস্থা হতে পারে। সমস্যা হচ্ছে সেই বাড়ি ভাঙার কারিগর রাজার নেই। পাথরের বাড়ি ভাঙতে পারে বুনো-বর্বরেরা। কিন্তু তারা রাজার প্রজা নয়। তারা খাজনা দেয় না। রাজা তখন তাদের সংগে চুক্তিতে আসেন। চুক্তির শর্ত হচ্ছে এই, বুনোরা রাজার জন্য পাথরের বাড়ি ভেঙে দেবে। বিনিময়ে পাবে অল্পকিছু পাথর, ইট আর থাকার জায়গা।

মানুষের পেটে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়া মানুষের জন্য বুনোদের মতো এই কাজটি করে দেয়।  মানুষ হজম করতে পারেনা এরকম অনেক কিছুই এরা হজম করতে সাহায্য করে। মানে মানুষের যেসব খাবার হজম করার এনজাইম নেই সেসব জিনিস এরা ভেঙে টুকরো করে দেয় (প্রয়োজনিয় এনজাইম বানিয়ে)। তারপর সেসব কিছু তারা নিজেরা পায় কিছু পায় মানুষ। বিনিময়ে কোনো রোগ না বাধানোর শর্তে তারা মানুষের পেটে থাকতে পায়। মানুষের খাবারে ভাগ বসাতে পায়।

বাসস্থান হিসেবে মানুষের পেট ব্যাকটেরিয়াদের জন্য আদর্শ। সেখানে আছে আরামদায়ক উষ্ণতা। সেখানে রোদে শুকিয়ে মরতে হয়না, ঠান্ডায় জমে মরতে হয় না, নিয়মিত খাবার পাওয়া যায়, আরো কত কী! সমস্যা কেবল একটাই, নিয়ম করে রোজ নিম্নমুখী একটা চাপ আর কিছু আত্মীয়-স্বজনের বিদায়!

অন্যদিকে এরা পেটে থাকলে মানুষের হাজারো সুবিধে। এরা না থাকলে বেশ কিছু অতি অতি অতি প্রয়োজনীয় খাবার পেতো না মানুষ! এরা আছে বলে অনেক ভয়ঙ্কর জীবাণু পেটে আস্তানা গাড়তে পারে না। আপনার বাড়ির গেটের কাছে যদি কিছু ঘরহীন মানুষকে রাতে থাকতে দেন তাহলে তাদের জন্য চোর-ডাকাত যেরকম সুবিধে করতে পারেনা, সেরকম। এরকম কিছু অণুজীব খাবার হজম করা ছাড়াও আরো অনেক কিছু তৈরি করে দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচায়। ই কোলাই নামের একটি ব্যাকটেরিয়া অন্য অনেক কিছুর পাশাপাশি মানুষকে ভিটামিন 'কে' বানিয়ে দেয়। কে না জানে, ভিটামিন হচ্ছে মানুষের শরীরের নানা ক্রিয়ার সেই অতি প্রয়োজনীয় উপাদান যা শরীর নিজে বানাতে পারে না!

আজকের গল্প এই ই কোলাইকে নিয়ে।

ই কোলাইয়ের পুরো নাম ইশেরিশিয়া কোলাই ([i]Escherichia coli[/i])। সংক্ষেপে ই. কোলাই ([i]E. coli[/i])। প্রায় সোয়া শতাব্দী আগে জার্মান ডাক্তার থিওডোর এশেরিখ আবিষ্কার করেছিলেন এই অণুজীবকে। তাঁর নামের সঙ্গে মিলিয়ে এর নাম।

ই. কোলাই দেখতে কোলা-ব্যাঙের মতো নয়। অনেকটা চমচমের মতো। লেজ থাকলে, লেজওয়ালা চমচমের মতো। যাদের লেজ থাকে তারা লেজ ঘুরিয়ে চলতে ফিরতে পারে। এরা হচ্ছে উভজীবি। অন্তত অক্সিজেনের ক্ষেত্রে। কে না জানে, কিছু জীবাণু অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে, কিছু পারে না। কিছু জীবাণু অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসলেই পটল তোলে, কিছু তোলে না! ই কোলাই এক্ষেত্রে সর্বংসহা! অক্সিজেন থাকলেও সে বাঁচতে পারে, অক্সিজেন না থাকলেও তার কিছু এসে যায় না! আমার ধারণা, যারাই অণুজীববিজ্ঞান অথবা কাছাকাছি কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তাদের ই কোলাইয়ের প্রতি একটা বিশেষ মমতা আছে! এতো দীর্ঘ সময় পাশাপাশি থাকলে এমনিতেই মায়া জন্মে যায়!

ই কোলাই হচ্ছে "মডেল" অণুজীব। কতো হাজারো পরীক্ষা নীরিক্ষা যে ই কোলাইয়ের উপর করা হয় তা কে বলবে! নানা কারণে ই কোলাই ল্যাবরেটরিতে গবেষণার জন্য আদর্শ। এরা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় (উপযুক্ত পরিবেশে এমনকি ২০ মিনিটে একটা থেকে দুটো হয়ে যায়), এদেরকে সহজেই অক্সিজেন যুক্ত/মুক্ত পরিবেশে ল্যাবরেটরিতে চাষ করা যায়। এদের জেনেটিক গঠন অত্যাধিক জটিল কিছু নয়। ক্লোনিংয়ের জন্য এরা আদর্শ। এদেরকে নিয়ে যতো গবেষণা করা হয়েছে আর কোনো জীবাণুকে নিয়ে ততো করা হয়নি!

মানুষের জন্মের দিন দুয়েকের মধ্যেই এরা মানুষের পেটে স্থায়ী আবাস গেড়ে ফেলে। স্তন্যপায়ী প্রাণিদের পাকস্থলীতে থাকে বলে কোনো খাবারে (বা অন্য কিছুতে) ই কোলাই পাওয়া গেলে ধরে নেয়া হয় সেই খাবার কোনো না কোনোভাবে মলের সংস্পর্শে এসেছে। এমনিতে মানুষের পেটে এদের স্থায়ী আবাস খুব জরুরী। এরা না থাকলেই বরং মানুষ বিপদে পড়বে। তবে কিনা কখনো কখনো এরা আর উপকারী অথবা নীরিহ থাকে না। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে! কিভাবে?

যে স্বচ্ছ শিশুটি জিহাদের নামে মানুষ মেরে ফেলতে চায় সে যেভাবে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, সেভাবে।

ই কোলাইয়ের আছে অনেকগুলো স্ট্রেইন। স্ট্রেইন হচ্ছে একই জীবাণুর একটুখানি ভিন্ন রুপ। কলেজ পাস একটি ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ালে সে কলকব্জার ওস্তাদ হয়ে ওঠে, সেই ছেলেটিকেই সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে উড়োজাহাজের চালক বানিয়ে ফেলা যায়, অথবা সে চাইলে ডাক্তার হয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে, জঙ্গী হয়ে মানুষ মেরেও ফেলতে পারে। ব্যাপারটা প্রশিক্ষণের। একই শিক্ষার্থীর ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার অথবা বিমান চালকের রুপগুলোকে মোটাদাগে স্ট্রেইন বলা যায়।

ব্যাকটেরিয়ারা এভাবে কলেজে গিয়ে প্রশিক্ষণ না পেলেও "হ্যান্ডনোট" পায়। এদের হ্যান্ডনোট হচ্ছে ছোটো ছোটো জিন। এসব "হ্যান্ডনোটে" (অর্থাৎ জিনে) লেখা থাকে কিভাবে মানুষের পেটে শান্তির সাম্যাবস্থা উলটে দিয়ে সব তালগোল পাকিয়ে ফেলতে হবে। অথবা যে ব্যাকটেরিয়াটা নীরিহ ছিল সে হয়তো কোনো হ্যান্ডনোট পেয়ে মারাত্মক বিষ বানাতে শিখে যায়! হ্যান্ডনোট কিভাবে পায় ব্যাকটেরিয়ারা?

অনেকভাবে পেতে পারে। এই ব্যাপারগুলো অনেক বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা ছাড়া বোঝানোর উপায় নেই। সেদিকে আজকে না যাই। আজকে কেবল বলে রাখি, নীরিহ ব্যাকটেরিয়ারাও কোথাও থেকে হ্যান্ডনোট যোগাড় করে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। যে ব্যাকটেরিয়া হ্যান্ডনোট পায় তার ছানাপোনারা সবাই উত্তরাধিকার সূত্রে সেই হ্যান্ডনোট পেয়ে যায় তো বটেই এমনকি অন্যদেরকেও তা বিলিয়ে বেড়াতে পারে। একেক রকমের হ্যান্ডনোট ওয়ালা ব্যাকটেরিয়া একেক রকমের স্ট্রেইন হিসেবে পরিচিতি পায়। সব হ্যান্ডনোটই যে মানুষের সর্বনাশ করার জন্য, তা নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এসব হ্যান্ডনোট মানুষের বিপদের কারণ। ই কোলাইয়ের যেসব স্ট্রেইন বিপজ্জনক সেগুলোর আবার তালিকা করা যায়। এই তালিকাকে বলে ভাইরোটাইপ (Virotype)। ভাইরোটাইপ এসেছে ভিরুলেন্স (Virulence = রোগ/সংক্রমণ সৃষ্টির ক্ষমতা) শব্দটি থেকে। নিচে দেখুন,

EHEC = এন্টারো হেমোরেজিক ইশেরিশিয়া কোলাই। এই ভাইরোটাইপের অন্তর্ভুক্ত স্ট্রেইনগুলো রক্তযুক্ত ডায়রিয়ার কারণ। এরা মানুষের কিডনি অকেজো করে দিতে পারে।
ETEC = এন্টারো টক্সিজেনিক ইশেরিশিয়া কোলাই। এরাও ডায়রিয়ার কারণ। এরা বানাতে পারে দুটি বিপজ্জনক বিষ।
EIEC = এন্টারো ইনভেসিভ ইশেরিশিয়া কোলাই। এরা তীব্র জ্বর সহ ডায়রিয়ার কারণ।
EPEC = এন্টারো প্যাথোজেনিক ইশেরিশিয়া কোলাই। এদের সংক্রমণে ডায়রিয়া হতে পারে।
EAEC = এন্টারো এগ্রিগেটিভ ইশেরিশিয়া কোলাই। এরাও ডায়রিয়ার কারণ।

ধারণা করা হয়, এই ভাইরোটাইপগুলোর অনেকগুলোই মানুষের বিপদ বাধানোর "হ্যান্ডনোট" পেয়েছে কলেরার জীবাণু থেকে। কেউ কেউ পেয়েছে শিগেলা নামক অন্য আরেকটি জীবাণু থেকে। এদের মধ্যে অনেকেই হঠাৎ হঠাৎ দূর্ঘটনা/অসাবধানতাবশত ছড়িয়ে পড়ে মানুষকে নাজেহাল করে তোলে। ইউরোপে যেরকম গত কয়েকদিনে অন্তত ১৮ জন মারা গেছে এদের কারণে। নানা জায়গায় নানা খবর পাচ্ছি বলে আমি নিশ্চিত নই ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া ই কোলাই কোন ভাইরোটাইপের অন্তর্ভুক্ত। সম্ভবত এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। শুনেছি এটা EHEC।

তো সব মিলিয়ে ব্যাপারটা এরকম, ই কোলাই এমনিতে খুব লক্ষ্মী একটা জীবাণু। কিন্তু এদের কেউ কেউ বিপথে গিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এরা একেকটা স্ট্রেইন। বিপথগামী এসব ই কোলাইয়ের স্ট্রেইন সুযোগ পেলেই মানুষের সর্বনাশ করে ছাড়ছে।

আগে এইসব নচ্ছার ই কোলাই অন্য অনেক জীবাণুর মতো "বিশেষ কিছু গুণের" অধিকারী ছিলনা বলে খুব সহজেই এদেরকে এন্টিবায়োটিক দিয়ে পরাস্ত করা যেতো। কিন্তু মানুষ তার মূর্খামির গুণে এদেরকে এন্টিবায়োটিক সহনশীল করে তুলেছে। পেনিসিলিন গ্রুপের বেশ কিছু এন্টিবায়োটিক এদের বিরুদ্ধে একেবারে অব্যর্থ অস্ত্র ছিলো মানুষের। পেনিসিলিনের থাকে "বিটা ল্যাকটাম" নামক "সুদর্শন চক্র"। এই এন্টিবায়োটিক এদের কোষের চামড়া বানানোর প্রকৃয়ায় বাগড়া দিয়ে এদেরকে নাস্তানাবুদ করে। কিন্তু অনেক বছর হয় এরা পেনিসিলিনকে কাবু করার উপায় বের করেছে। এরা বানাতে শিখেছে "বিটা ল্যাকটামেজ" নামের একপ্রকার এনজাইম যেটা পেনিসিলিনের "বিটা ল্যাকটাম" নামক সুদর্শন চক্রকে ভেঙে ফেলে। (সেই যে বলেছিলাম, "প্রোটিয়েজ" এনজাইম মানুষের পেটে প্রোটিন টুকরো করে ফেলে, তেমনি "বিটা ল্যাকটামেজ" এনজাইম টুকরো করে বিটা ল্যাকটাম'কে)। বিটা ল্যাকটাম ভেঙে গেলে পেনিসিলিন এদের কাছে হয়ে যায় ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দারের মতো।

আজকাল যে ESBL নিয়ে পৃথিবীর নানা গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা খেটে মরছেন সেটা আসলে Extended-spectrum beta-lactamase এনজাইম। এই এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে দারুণভাবে এন্টিবায়োটিক সহনশীল করে তোলে। যে ব্যাকটেরিয়া এই এনজাইম বানানোর হ্যান্ডনোট পায় সে তাই মানুষের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। অনেক ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া ESBL হ্যান্ডনোটটি পেয়ে গেছে। আরো আশঙ্কার কথা হচ্ছে ব্যাকটেরিয়ারা এই হ্যান্ডনোট বিলিয়ে বেড়াচ্ছে সবখানে। কার্যকর নতুন এন্টিবায়োটিক না আসলে মানুষ এদের কাছে নিতান্ত অসহায় হয়ে পড়বে! বস্তুত এদের অনেকের কাছেই মানুষ এখনই অসহায়...

সচলায়তনে প্রকাশিত

কোন মন্তব্য নেই: