শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১১

মুহম্মদ জাফর ইকবালকে আমরা ছাড়বো না!

১. তিনি এখন মিডিয়াসৃষ্ট জনপ্রিয়তার ফাঁপা রঙিন ফানুসের বাসিন্দা।
২. একটা সুদখোরের জন্য তার কলমের কালি ব্যাবহৃত হতে পারে। কিন্তু এ ক্রান্তিকালে জাতীয় সম্পদের রক্ষার জন্য তিনি কলমের ঢাকনা খুলছেন না!
৩. তিনি বামপন্থী আন্দোলন পছন্দ করেন না।
৪. তিনি হরতাল সমর্থন করেন না।
৫. তেল-গ্যাস পাচার/রক্ষা বিষয়ে তিনি মৌন।

[বলে নেয়া ভালো, এই লেখাটি খুব যুক্তিতর্ক দিয়ে কোনোকিছু বুঝিয়ে বলার জন্য লেখা নয়। সেটির প্রয়োজনও নেই। এই লেখাটি লেখাটার মূল কারণ তীব্র বিরক্তি! অক্ষরের কাঁধে বিরক্তি চাপিয়ে ভারমুক্ত হবার চেষ্টা থেকে লেখা বলেই এটি খুব গোছানো লেখা হবে না। প্রাজ্ঞ পাঠককে সতর্ক করছি, হতাশ হবার সম্ভাবনা আছে।]

প্রথম থেকে শুরু করি, জাফর ইকবাল স্যার এখন মিডিয়াসৃষ্ট জনপ্রিয়তার ফাঁপা রঙিন ফানুসের বাসিন্দা। মানে ওনার জনপ্রিয়তা মিডিয়া বানিয়ে দিয়েছে। বোঝা যায়, তাঁর নিজের যোগ্যতা ছিলনা বলেই মিডিয়াকে তার জনপ্রিয়তা বানিয়ে দিতে হয়েছে। এবং সেই জনপ্রিয়তার রঙিন ফানুস যেটা কিনা ফাঁপা মানে অন্তর্সার শূন্য, সেখানে তিনি বাস করেন। আন্দাজ করি মিডিয়ায় ওনার বিরাট যোগাযোগ ছিল অথবা ওনার অনেক টাকা ছিল/আছে যা দিয়ে তিনি মিডিয়া কিনেছেন। এবং সেই মিডিয়া তাকে দিয়েছে জনপ্রিয়তা। মিডিয়ার শক্তিতেই হাজারে হাজার শিশুকিশোর তাঁর ভক্ত, হাজারে হাজার তরুণ-যুবা তাঁর ভক্ত, হাজারে হাজার প্রৌঢ়-বৃদ্ধ তাঁর ভক্ত!

নিশ্চয়ই। বই তো একটা মিডিয়াই! জাফর ইকবাল স্যারকে আমরা চিনি ওনার বই, ওনার লেখা দিয়েই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে মিডিয়ার তৈরি জনপ্রিয়তায় উনি বাস করতে চাইলে তাতে সমস্যা কোথায়! অনেক ভেবে চিন্তে আমি ইতিবাচক কিছু খুঁজে পাই না। আমি খুঁজে পাই বিদ্বেষ, আমি খুঁজে পাই অন্ধ আক্রোশ!

জাফর ইকবাল স্যারের প্রধান শত্রু ছিল এতদিন জামাত-শিবির। ব্যপারটা নতুন নয়। এই বিষয়গুলোকে পাত্তা দেই না। ওনার বিরুদ্ধে প্রচার তো হবেই। উনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান, প্রকাশ্যে জামাত শিবিরের বিরোধীতা করেন। কিন্তু এবার আরেক গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে। বামের ছদ্মবেশে এরা জামাতের কর্মী কিনা আমি নিশ্চিত নই। কেবল নিশ্চিত যে এরা ভিন্ন পথে জাফর স্যারকে ধরতে চাচ্ছে। জাফর স্যার একটা মন্দ লোক আর তার সবই ভান তাই তাকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে ভুলে যাও। মোটামুটি এদের লক্ষ্য হচ্ছে এই! সেই লক্ষ্য পুরণের জন্য তাদের যেসব যুক্তি/কুৎসা সেগুলোর কয়েকটা আমি পয়েন্ট করে লিখেছি। এই শ্রেনীর যুক্তি(!) শেষ হবার নয়, আমি তাই সব যুক্তি খুঁজে বের করে সেসব খণ্ডন করতে যাব না। আমি কেবল বলতে চাই আমি বিরক্ত হচ্ছি! আমাদের ঘেন্না লাগছে।

জাফর ইকবাল স্যার একটা সুদখোেরর জন্য লিখতে পেরেছেন অথচ তাদের গ্যাসের মতো জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে তিনি মুখ খুলছেন না! তেল গ্যাস প্রসঙ্গে পরে আসছি। আগে "সুদখোর" ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করি। ধারনা করি ড. ইউনুস প্রসঙ্গে কথাটি এসেছে। ড. ইউনুস ভালো লোক নাকি মন্দ লোক সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে! তিনি মন্দ লোক হলে জাফর স্যার কেন তার পক্ষ নিলেন সেটা নিয়েও কথা উঠতে পারে! কিন্তু ড. ইউনুস একটি ব্যাঙ্কের পরিচালক (ছিলেন) এবং (ব্যাঙ্কে যেহেতু সুদের ব্যপার আছে) সেটা একটা অপরাধ/মন্দব্যপার হতে পারে সেটা ভেবে বেশ নাড়া খেলাম। এই সমস্যার একমাত্র সমাধান ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা বলেই মনে হচ্ছে! যেখানে সুদের কারবার থাকবে না। জাফর স্যার সুদখোরের পক্ষের লোক যারা বলছে তারাও আমার মতই ভাবে বলে সন্দেহ করি! জামাতই একমাত্র সমাধান, কী বলেন?

বড় অভিযোগের একটা হচ্ছে জাফর স্যার বামপন্থী আন্দোলন পছন্দ করেন না! বামপন্থি আন্দোলন পছন্দ না করা যে একটি অপরাধ হতে পারে সেটা আমার জানা ছিল না। ধরলাম সেটাই। বামপন্থী মৌলবাদী না হওয়া অপরাধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে জাফর স্যার বাংলাদেশের বর্তমান বামপন্থি আন্দোলন(!)/বিপ্লবীদের(!!!) পছন্দ করেন না? নাকি বামপন্থা ব্যপারটাই পছন্দ করেন না? তিনি কি তাঁর আশেপাশে যাদেরকে বামপন্থী রাজনীতি করতে দেখেন তাদের পক্ষ নিতে চাননা নাকি তিনি বামপন্থা বিষয়টাই পছন্দ করেন না? ব্যপারটা ওনাকে জিজ্ঞাসা করার আগে নিশ্চিত হতে পারছি না। তবে একটা ব্যপার নিশ্চিত হয়েছি, বামপন্থীরা যদি কোথাও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করে আর আপনি সেখানে না যান তাহলে আপনি কবিতার বিপক্ষে! জামায়াত যদি কুরান নিয়ে আলোচনার আয়োজন করে আর আপনি সেটাতে যোগ দিতে না চান তাহলে স্পষ্টত আপনি কুরানের বিপক্ষে!

আরো আছে। জাফর স্যার হরতাল পছন্দ করেন না। আমাদের দেশে খুব মজার কিছু ব্যপার আছে। যেমন ধরেন জামাত হচ্ছে আল্লাহর দল! জামাতকে না মানা অর্থ আল্লাহকেই না মানা! সেরকম জাফর স্যার তেল গ্যাস রক্ষার জন্য আহ্বান করা হরতাল পছন্দ করেননি মানে তিনি তেল গ্যাস রক্ষার আন্দোলনের বিরোধী! ওনার অবশ্যই আর কোনো পছন্দ থাকতে পারে না। আন্দোলন হচ্ছে আন্দোলন। নেতারা যা বলবেন তুমি তাই মেনে দৌড়াতে থাকবে। তা না হলে তুমি আন্দোলনের বিরোধী! আমি নিজে হরতালের পক্ষে নই। তারমানে নিশ্চয়ই আমিও তেল গ্যাস বিক্রি করে দিতে চাই। আন্দোলনের/প্রতিবাদের অন্য কোনো উপায় তো থাকতেই পারে না! আছে কেবল হরতাল। দ্বিমত হয়েছ মানে তুমি বিরোধী! শহীদুল্লাহ স্যার হরতালের পক্ষে। জাফর স্যার যদি তার পক্ষ না নেন অথবা শহীদুল্লাহ স্যারের সঙ্গে যদি ওনার দ্বিমত থাকে তাহলে তিনি নিশ্চয়ই শহীদুল্লাহ স্যারকে খারাপ বলছেন! তিনি নিশ্চয়ই শহীদুললাহ স্যারকে শত্রু ভাবেন!

জাফর স্যার কেনো তেল গ্যাস রক্ষার আন্দোলনে মাঠে নামেন নি? আমিও তাই বলছি। কেনো নামবেন না? ইয়ার্কি পেয়েছেন?! আপনাকে অবশ্যই মাঠে নামতে হবে। তা না হলে আপনি মার্কিন কোম্পানির দালাল! ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের ব্যপারে কিছু বলছেন না কেনো আপনি? আপনি নিশ্চয়ই ইরাক যুদ্ধের পক্ষে! পরিমলকে নিয়ে কিছু লিখেছেন? আপনি নিশ্চয়ই ধর্ষনের পক্ষে! বেয়াড়া ট্রাক চালকের জন্য এতগুলো শিশু প্রাণ ঝরে গেল। সেটা নিয়েও তো আপনি কোনো রা কাড়েন নি! বুঝতে পারছি, আপনারও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। আপনিও শিশু হত্যা করতে চান। উগান্ডার শিশুরা না খেয়ে মরছে অথচ আপনি কিছু লিখছেন না! আপনি কি স্যাডিস্ট? শিশুদের না খেতে পেতে দেখলে আপনি খুশি হন?

আমাদের কাছে সূত্র আছে স্যার। সেই সূত্রে ফেলে আপনাকে সাদা-কালো বানাতে পারি আমরা। আপনি আমাদের ঠিকমতো চিনতে পারেন নি এখনো। আমরা মৌলবাদী!

অবশ্য যদি তেল গ্যাস নিয়ে মুখ খোলেনও তাতেও লাভ নেই। আমাদের ভাই-ব্রাদারেরা তাতেও আপনাকে ছাড়বে না! এই দেশের কিশোর থেকে প্রৌঢ়েরা আপনাকে মানে, আপনাকে পছন্দ করে। আপনাকে আমরা সহজে ছেড়ে দেব না!

সচলায়তনে প্রকাশিত।

২টি মন্তব্য:

রাইয়ান Raiyan বলেছেন...

আমিও না

অনার্য সঙ্গীত বলেছেন...

আরে ব্যাটা তুই তো ওনাকে ধরতেই পারবি না! ওনাকে সবসময় কেউ না কেউ ধরে থাকে! এখন যেমন বাম বিপ্লবীরা(!) ধরে আছে!