রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১২

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল প্রসঙ্গে 'আমার দেশ' পত্রিকার নোংরামী এবং চমৎকার কিছু তথ্য

গত বুধবার (৫ ডিসেম্বর ২০১২) লণ্ডনের দ্য ইকোনমিস্টের সাংবাদিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম'কে ফোন করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করে। সাংবাদিকের ভাষ্যে, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের স্কাইপে আলোচনার রেকর্ড তা(দে)র কাছে রয়েছে এবং তারা সেটি প্রকাশ করতে চায়। ট্রাইবুনাল নির্দেশ দিয়েছে চুরি করা কোন তথ্য যেন প্রকাশ করা না হয়, সেটি বিচারকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। একই সঙ্গে আদালতের কাজে হস্তক্ষেপ এবং বিচারকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার জন্য কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না সেই মর্মে ইকোনমিস্ট'কে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছেন আদালত। ইকোনমিস্টকে নিয়ে এই ঘটনার মাঝেই আমার দেশ পত্রিকা ড. জিয়াউদ্দিন এবং বিচারপতি হকের কথোপকথনের ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করেছে। আমার দেশের হ্যাকিং এ অংশগ্রহন খুব অবাক করা কিছু নয়। যে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়ার জন্য নিয়মিত মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, রাজনৈতিক-কূটনৈতিক নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সেই বিচার কার্যে বাধা দিতে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা না করা হলেই সে আশ্চর্যজনক হত।

(এই লেখার শুরুতেই একটি কথা স্পষ্ট বলে নিচ্ছি, বিচারপতি নিজামুল হক যদিও বলেছেন তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে স্কাইপেতে কথা বলেছেন, কিন্তু আমার দেশে প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্ট যে তাঁরই কথোপকথন সেটা তিনি নিশ্চিত করেছেন বলে আমার জানা নেই। ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনও এই প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করেন নি। সেইজন্যে, এই লেখায় আমার দেশে প্রকাশিত স্ক্রিপ্টে বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড.আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথোপকথের বিষয়ে যে আলোচনা করছি সেটি যে সত্যি তাঁদেরই কথোপকথন সেরকম কোন দাবী আমি করছি না।)

মূল বক্তব্যে ফিরি।

প্রথমেই 'আমার দেশ'-এর ধন্যবাদ প্রাপ্য। তারা তাদের নোংরামির মাধ্যমে হলেও এটা প্রমাণ করেছে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ৭১-এর  যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার হচ্ছে সেই বিচার খুব সঙ্গত আর স্বচ্ছভাবেই হচ্ছে। যে বিচারকরা এই বিচার করছেন তাঁরাও প্রভাবমুক্ত। এই কথাগুলো অবশ্য যাঁরা ৩০ লক্ষ স্বজন হারানোর বেদনা বুঝতে পারেন তাঁদের আগে থেকেই জানা ছিল। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বিরোধীতাকারী জামায়াত-শিবির এবং এদের বংশোদ্ভুত বেঈমান সম্প্রদায়েরই কেবল এই বিষয়টি বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল। তবে তাদেরই পত্রিকা আমার দেশ যখন এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, সে নিজেদের নির্বুদ্ধিতার জন্যে হলেও, তখন তাদের পায়ের নিচের মাটি আরো খানিকটা সরে গেল ভেবে ভালো লাগছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার সামনে যে বাধা তার তালিকা দীর্ঘ! ইতিহাসের সবচে ঘৃণ্য নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি সংগঠিত হয়েছে যে শ্বাপদদের দ্বারা, সেই নরপশুদের বিচারের জন্য অসামান্য লোকবল এবং অর্থবলের প্রয়োজন ছিল। যেভাবে যত পরিপূর্ণ আর শক্তভাবে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন ছিল সেভাবে আয়োজন করার সামর্থ আমাদের হয়নি। কতকিছু যে অবশ্যই থাকার প্রয়োজন ছিল এই বিচারের জন্য সেই তালিকা দিয়ে দুচারটি ব্লগ লিখে ফেলা যাবে। সেই প্রসঙ্গে না যাই। আমার মাতৃভূমি দরিদ্র। আমাদের দূর্বলতা নিয়েই আমরা স্বজন হত্যার বিচার না করার কলঙ্ক মুছবার পথে এগোচ্ছি।

যেরকম নাটক-সিনেমায় হয়ে থাকে, এই সময়ের বাস্তবেও, আমাদের যত অর্থ আর লোকবলের অভাব রয়েছে, জামায়াতের সেসব নেই। জামায়াত-শিবির কতভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করতে চেষ্টা করে সেই হিসেব সংক্ষেপে দেয়া সম্ভব নয়।  অপরাধী বাঁচাতে খ্যাতিমান আইনজীবি রয়েছে তাদের, পৃথিবী সেরা প্রচার সংস্থা ভাড়া করা রয়েছে তাদের, পয়সা খাওয়া কূটনীতিক রয়েছে তাদের, রক্ষা করার মত বিদেশী সহচর এবং প্রভু রয়েছে তাদের, দেশ বিদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন অথবা দলবদ্ধভাবে নেটে/বাইরে প্রচারের জন্য নিয়োগ করা বাহিনী রয়েছে তাদের, রয়েছে শিবিরের লাখ লাখ শুয়োর! আপনি কি কল্পনা করতে পারেন জামায়াত কত টাকা এবং কত লোকবল খাটায় যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য? না কল্পনা করতে পারেন না! কোন সাধারণ মানুষ কল্পনায় এই অংক আসার কথা নয়!

আমার অভাগা মাতৃভূমি কীভাবে এগোচ্ছে?

নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের একজন বিচারককে সাহায্য করার জন্য বিশেষজ্ঞ-কর্মীদের বাহিনী প্রয়োজন হয়। বাহিনী তো দূরে, তার ক্ষুদ্র একটা ভাগও আমরা সেটা দিতে পারিনি। তাছাড়া এই প্রক্রিয়া এইদেশে প্রথম। বিচারও হচ্ছে একটি নতুন আইনে। বিচারকরা তাঁদের কাজের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্যেই বিশেষজ্ঞ-অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। বিচার কার্য বিষয়ে একজন বিচারকের তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়টি নিয়ে যাঁরা জানেন না তাঁদের জানিয়ে রাখি, পরামর্শ নেয়ার এই বিষয়টি বেআইনি নয়, নতুন কিছুও নয়। এটি সহজ এবং স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন একজন আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ। বিচারকরা প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে অথবা অন্য কোন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলতেই পারেন। এতে বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়না। এই প্রক্রিয়া নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে তার বুদ্ধিমত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়!

বিচারকের কথা/আলোচনা তাঁর অনুমতি ছাড়া কেন রেকর্ড/হ্যাক/প্রচার করা হবে? এই প্রশ্নটির জবাব নিশ্চয়ই মাননীয় আদালত চাইবেন। বাংলাদেশের আইনানুযায়ী (এবং ব্রিটিনের আইনেও) হ্যাকিং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সমস্যা হচ্ছে, বিচারকের কাছ থেকে তথ্য চুরির সঙ্গে আরো অনেক প্রসঙ্গ জড়িত। বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়টি কেউ জিজ্ঞেস করেই জানতে পারে। যা জানতে পারেনা তা হচ্ছে স্বাক্ষীদের সম্পর্কে তথ্য। 

এইকজন বিচারকের কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। গোপন তথ্য আছে বলে কোন ব্যক্তি কোন বিচারককে ফোন করতে পারেনা, কোন প্রশ্ন করতে পারেনা! তাতে বিচার কার্য প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তথাকথিত সাংবাদিক সাহেব আসলে কী চান? বিচার প্রভাবিত করার ইচ্ছে কেন তার? সে এবং তার দোসররা কেন হত্যাকারীদের রক্ষা করতে চায়? এই প্রশ্নগুলোর জবাব সব বাংলাদেশী জানেন। বাঙালী মাত্রই বেঈমানদের সঙ্গে পরিচিত। মীরজাফরের বংশধরেরা একাত্তর থেকে রক্ত মেখে নিয়ে এখনো যে সক্রিয়, সে সকলেরই জানা।

প্রশ্ন হচ্ছে এরা কতদিন থেকে সক্রিয়? জামায়াতের হ্যাকাররা কতদিন থেকে হ্যাকিং করছে?

এই প্রশ্নের জবাব এখনই দিতে পারছি না। কিন্তু এই সময় যে দীর্ঘ তাতে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের স্বাক্ষীরা কেন হঠাৎ করেই স্বাক্ষী দিতে ভয় পাচ্ছিলেন, স্বাক্ষী/তাঁদের আপনজন কীভাবে হামলার স্বীকার হচ্ছিলেন সেটি এখন স্পষ্ট হচ্ছে আমাদের কাছে। জামায়াত শিবিরের শ্বাপদেরা বিচারকদের কাছে থাকা স্বাক্ষী সম্পর্কিত অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য চুরি করে তাঁদের প্রভাবিত করেছে, করার চেষ্টা করেছে। এইজন্যেই এখন স্বাক্ষী নিরাপত্তা ভয়াবহভাবে হুমকীর মুখে। রাষ্ট্রপক্ষের স্বাক্ষী উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনের কারণগুলোও এখন স্পষ্ট।

আমার দেশ এ প্রকাশিত কথোপকথনের বর্ণনা দীর্ঘ। ১৭ ঘন্টার কথোপকথন নাকি রয়েছে তাদের কাছে। তারা প্রকাশ করেছে তার কিছু অংশ। সেই কিছু অংশেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে চলা বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে দারুণ অনেক তথ্য পাই আমরা।

আমার দেশ-এ প্রকাশিত হওয়া বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথোপকথনে দেখা যায়, সরকারের মন্ত্রী(রা) এই বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে নেয়ার ব্যপারে উদগ্রীব। এটি আমাদের আশান্বিত করে। স্বজন হত্যার বিচার হবে সেই আশা নিয়ে যত ব্যথিত মানুষ এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে তাঁদের পক্ষ থেকে আমি এই সরকারের সকলকে অভিনন্দন জানাই। জনগনের প্রতিনিধিরাও জনগনের চাওয়াকে হৃদয়ে ধারণ করেন সেটি জেনে ভালো লাগলো। আমরা আশা করি আমাদের প্রতিনিধিরা আমাদের চাওয়াকে সবসময়ই সবার উপরে রাখবেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সচল রাখতে তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে।

মজার বিষয় হচ্ছে, মন্ত্রীর আগ্রহকে বিচারক অথবা পরামর্শদাতা বিশেষজ্ঞ কেউই খুব সহজে নেন নি। তাঁরা দুজনেই সরকারের আগ্রহের যে 'চাপ' সেই চাপ'কে এড়িয়ে গিয়ে আইনের নিজের গতিতে, সে দীর্ঘ সময় নিয়ে হলেও, একটি সুষ্ঠ বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া পক্ষে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার স্বজনদের হত্যাকারীদের মানবাধিকারে বিশ্বাস করিনা। আমার মায়ের দিকে কেউ চোখ তুলে চাইলে আমি হিংস্র হয়ে উঠব। সভ্য উপায়ে আইন নিজের হাতে না তুলে নেয়ার মানবতা আমার ভেতরে কাজ করবে না। বিচারপতি নিজামুল হক এবং আইন বিশেষজ্ঞ এই দেশেরই সন্তান। স্বজন হারানোর বেদনা তাঁদের হৃদয়েও বাজে। কিন্তু আবেগ এড়িয়ে গিয়ে তাঁরা এই বিচারকে ন্যয্য রাখার যে মনোভাব ধারণ করেন সেজন্য আমি তাঁদের অভিনন্দন জানাই। পৃথিবীর দরবারে, সময়ের চোখে এই বিচার নিয়ে যেন কোন প্রশ্ন না ওঠে সেই নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

প্রসঙ্গত, ছাগু সম্প্রদায়ের ম্যাৎকার বিষয়ে উল্লেখ করা যেতে পারে, ড. আইহমেদ জিয়াউদ্দিন রায় লিখে দিচ্ছেন না। এই কথোপকথনে তিনি রায় লিখবার একটি 'স্বীকৃত কাঠামো' তৈরি করতে সহযোগিতা করার কথা বলছেন মাননীয় বিচারপতিকে। সেইসঙ্গে তাঁরা দুজনেই একটি বিস্তারিত, পূর্ণাঙ্গ এবং আইনসিদ্ধ রায় দেয়ার পক্ষে। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমরা যাঁরা কেবল একটি রায় শুনতে চাই, তাঁদের কথা মেনে কেবল একটি 'রায়' দেয়ার পক্ষেই তাঁরা নন। আমরা এখন জানি যে, এই বিচারের রায় হবে পূর্ণাঙ্গ এবং বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

আমার দেশের হ্যাকিং এ অংশগ্রহন এবং প্রচার অবিশ্বাসীদের একগাদা অভিযোগ-প্রচারনার পথ বন্ধ করে দিল। 'শেখ হাসিনার আইওয়াশ' দিয়ে যে প্রচারণা শুরু হয়েছিল সেই প্রচারণা সময়ে সঙ্গে সঙ্গে নানা রূপে আমাদের সামনে এসেছে। আমরা শুনেছি, 'কাউকেই গ্রেপ্তার করা হবে না, এই বিচার একটা ভান'। অপরাধীদের যখন গ্রেপ্তার করা হল তখন আমরা শুনেছি, 'তদন্তে কিছুই প্রমাণ হবে না, কোর্টে কিছুই টিকবে না'। তদন্তে যখন যুদ্ধাপরাধ প্রমাণ হল, প্রমাণ যখন কোর্টে টিকে গেল তখন এল শেষ বক্তব্য। 'কোন কথা নেই, এই বিচার ভেঙে দাও, এই বিচার মানিনা'।

প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে সকল ফ্রন্টে তাদের নোংরামি জারি থাকলো। 'আমার দেশ' নামের পত্রিকা নির্লজ্জ প্রচার করতে থাকলো দেশবিরোধীদের পক্ষে! বিচারকের কাছে থাকা তথ্য চুরি হল! বিচারকের কাছে থাকা তথ্য চুরি গিয়ে পুরো বিচার প্রক্রিয়াটিই হুমকির মুখে পড়ল। হুমকির মুখে পড়লেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে যুদ্ধাপরাধের বিচারে সহায়ক পরামর্শদাতা এবং তাঁদের স্বজনরাও। আমরা সহ্য করছি এখনো। আমাদের সবসময়ই সহ্য করতে হয়।

৭০ বছর পরে এসে এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ হয়নি বলা আইনগতভাবে অপরাধ। এখনো সেই অপরাধীদের পক্ষে কথা বলা, প্রচার করা, এমনকি তাদের অপরাধ সম্পর্কে সন্দেহ করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর আমার অভাগা স্বদেশ তাঁর সন্তানদের লাশ বুকে নিয়ে শুনেছে সেই হত্যা অস্বীকার করার কথা। আমার অভাগা স্বদেশের পতাকা উড়েছে হত্যাকারীর গাড়িতে! স্বদেশের রক্ত চুষে নেয়া মিলিয়ন ডলার নিয়ত খরচ হয়ে যাচ্ছে এই দেশের জন্মের যারা বিরোধীতা করেছিল তাদের বাঁচাতে। আমরা সহ্য করছি!

তবে সহ্য করার সহজ একটি কারণ রয়েছে। আমরা শ্বাপদ নই। স্বজনের হত্যাকারীদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া দারুণ তীব্র ক্রোধ হৃদয়ে চেপে নিয়ে আমরা সহ্য করি। আমরা সহ্য করি কারণ আমাদের উত্তর প্রজন্ম জানবে, আমরা ন্যয্য বিচার করেছিলাম। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলিনি, ধর্মের নামে হত্যা করিনি, জীবিত পুড়িয়ে হত্যা করিনি, পশুরও অধিক নির্যাতন করিনি। আমরা কথা বলার সমান সুযোগ দিয়েছিলাম, আমরা আমার দেশের আইনকে সন্মান করেছিলাম।

আমরা সহ্য করি কারণ আমাদের কাজ দিয়ে আমরা কখনো আমাদের মা-কে লজ্জা দেব না। আমাদের জন্যে কখনো আমাদের উত্তর প্রজন্মের মাথা নিচু হয়ে যাবেনা।


ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন
.

কোন মন্তব্য নেই: