বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

আপনাকে লিখছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
এই লেখাটি যে খুব ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে অতোটা আস্থা রাখতে পারছি না। কিন্তু ভবিষ্যতের কাছে আমাদের যে দায় রয়েছে সেই দায় খানিকটা হলেও পূরণের চেষ্টা করতে এই লেখাটি লিখছি। বলতে ভালো লাগছে, দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে এই লেখাটি আপনাকে লিখতে পারছি। স্বাচ্ছন্দ্যের কারণ আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ। সেজন্য এই লেখাটিতে শিক্ষা কী, তা আপনাকে আলাদা করে বুঝিয়ে বলতে হবে না। আমি যে দেশের নাগরিক, যে দেশে আমি বেড়ে উঠেছি, কোনো অশিক্ষিত সামরিক শাসক অথবা অন্য কোনো অশিক্ষিত ব্যক্তি সেই দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছে না, সেটা নিঃসন্দেহে দারুণ একটা অনুভূতি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিশ্চয়ই আপনার অনেক বক্তৃতায় বলেছেন যে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের যে উন্নতি হচ্ছে সেটা আপনার সরকারের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কথাবার্তা শুনে সবসময়ই বুঝতে পারা যায়। বিরোধী দলের হিসেব দেখলে দেশের উন্নতির হিসেবে ভালোরকমের সন্দেহ তৈরি হতে পারে বটে, কিন্তু সেই হিসেবও আমি রাজনৈতিক হিসেবের তালিকায় রাখছি। এবং আপনাকে খুব দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমরা, মানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরা রাজনৈতিক বক্তব্যে আস্থা রাখতে পারি না। বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতা যে সবসময় মিথ্যে কথা বলেন সেটা বুঝতে পারার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আমরা না চাইতেও আমাদের হয়েছে!
সব মিলিয়ে যা বলতে চাইলাম, সেটা হচ্ছে আপনি অথবা আপনার দলের লোকেরা যে হিসেবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলতে চান, সেই হিসেব আমরা মানতে পারছি না। আমাদের সহজবোধ্য এবং যুক্তিযুক্ত হিসেবের প্রয়োজন। এবং কোনো পরিসংখ্যানের হিসেবে না গিয়েও আমরা এই কথাটি বুঝতে পারি যে, উন্নয়নের সরল অর্থ হচ্ছে যেটুকু রয়েছে তারচেয়ে খানিকটা বাড়িয়ে নেয়া। কিন্তু আমরা কীভাবে বাড়ছি? অর্থনীতিতে অথবা মানবিক উন্নয়নে আমরা কীরকম অগ্রসর হচ্ছি? আমরা আমাদের তুলনায় যে কিছু না কিছু উন্নতি করছি সেটা সত্যি হতে পারে। কিন্তু আমরা যে পৃথিবীর বাসিন্দা, সেই পৃথিবীর হিসেবে যেরকম উন্নয়নকে ঠিক উন্নয়ন বলা যায়, তা আমাদের একেবারেই হচ্ছে না! পূর্বের তুলনায় খানিকটা "কম মন্থর' গতিতে হাঁটলে এই পৃথিবীর সঙ্গে আমরা চলতে পারব না। বিশেষত যেখানে আমরা ইতোমধ্যেই অনেকটা পেছনে পড়েছি। আমাদেরকে শক্ত পায়ে দৌড়াতে হবে এই পৃথিবীর কাছাকাছি পৌঁছাতে হলে। কিন্তু ঝট করে দৌড়ে পৃথিবীকে ধরে ফেলতে চাইলে সে বাস্তব হয়ে ওঠে না!
মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কিছু দেশের মতো, (মধ্যযুগীয় সমাজ ব্যবস্থায় থেকেও) অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের সেইরকম উপর্যুপরি অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। আর তাছাড়া সহজ সত্যটি হচ্ছে, মানুষ উন্নত না হলে একটি দেশ কখনো উন্নত হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, প্রতিবছর ঋণের বোঝা বাড়িয়ে বাড়িয়ে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে দেশটিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেই দেশ এগোয় না। আমরা বিশেষত প্রতি নির্বাচনের আগে আগে যে চমকপ্রদ রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞার কথা শুনি, সে শুনে মনে হতে পারে এই দেশের রাজনীতিক ব্যক্তিবর্গ জাদুর কাঠি পেয়েছেন হাতে! কিন্তু বাস্তবে কোনো জাদুর কাঠি নেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জাদুর কাঠি থাকা সম্ভব নয়। 
কিন্তু তার মানে সকল দুয়ার বন্ধ তা-ও নয়। আমি খুব আশা করে আছি যে, এই কথাটি আপনি জানেন। আপনি রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। আপনি শিক্ষিত। এবং আপনি এই দেশের মানুষদের চেনেন। আপনার না জানার কোনো কারণ নেই যে, আমাদের এই দেশটি এবং এই দেশের মানুষেরা সম্ভাবনাময়। এবং সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে একটিমাত্র উপায় হচ্ছে জাতিগতভাবে শিক্ষিত হয়ে ওঠা। শুনতে নিতান্ত সহজ সমাধান! তবে আমরা অনেকেই এটা যে সত্যি কথা তা বুঝতে পারার মতো শিক্ষিতও নই!
আপনি নিশ্চয়ই বলবেন, আপনার সরকার শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সম্ভবত দিয়েছেন। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকারের দেয়া গুরুত্ব যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের কোনো সরকারের দেয়া গুরুত্বই যথেষ্ট ছিলো না। শিক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তার একটি খুব প্রাথমিক আর সরল হিসেব ইউনেস্কোর পরামর্শে রয়েছে। সেটি হচ্ছে, জাতিয় বাজেটের অন্তত ২০ ভাগ শুধুমাত্র শিক্ষার পেছনে ব্যয় করার পরামর্শ। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই অংকটি হচ্ছে, জাতিয় বাজেটের অন্ততপক্ষে ২৫ ভাগ এবং জাতিয় আয়ের ৬-৮ ভাগ। একটি পরিবারের জন্য হিসেবটি এরকম, যদি কোনো পরিবার তার সব প্রয়োজন মেটাতে ১০০ টাকা ব্যয় করতে সমর্থ হয় তাহলে যেন সেখান থেকে অন্তত ২৫ টাকা সেই পরিবারটি শিক্ষার পেছনে ব্যয় করে। এই টাকার কতটুকু আমরা পাই, দুর্ভাগ্যবশত সেই হিসেবটি স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য নয়। তবে আমরা জানি, শিক্ষার জন্য আমরা পাই যা পাওয়া উচিত তার অর্ধেকেরও অনেকটা কম! সেই প্রপ্তির পরিমাণও গত তিনবছের কেবল কমছেই!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি মানছি আমি জাতীয় বাজেট এবং রাজনীতি সম্পর্কে দারুণ অজ্ঞ। কিন্তু আমি একটি বিষয় খুব স্পষ্ট জানি যে, এই জাতিটি যদি সত্যি সত্যি বদলে যেতে চায় তাহলে তাকে খুব স্পষ্টভাবে শিক্ষার জন্য তার সর্বশক্তি ব্যয় করতে হবে। এই পৃথিবীতে অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ কয়েকটি দেশ ছাড়া এমন কোনো উন্নত দেশ নেই যেই দেশের মানুষেরা অশিক্ষিত! সেরকম কোনো দেশ কখনো হবেও না। এটি সূর্যোদয়ের মতো সত্যি। অর্থনীতিতে যতই সমৃদ্ধ হোক, শিক্ষিত হয়ে ওঠা ছাড়া কোনো জাতি কখনোই সভ্য হয়ে ওঠেনি। কখনো হবেও না।
স্বাধীনতার ৫ বছরের ভেতর আমরা আমাদের রাষ্ট্রের স্থপতি আর এই জাতিকে হাত ধরে স্বাধীন করা নেতাদের গুলি করে মেরেছি! দীর্ঘ দীর্ঘ দিন এই দেশ শাসন করেছে অপদার্থ অশিক্ষিত সামরিক একনায়ক! (এরকম একজন আপনার রাজনৈতিক সহযোগী! যার গুলিতে নূর হোসেন শহীদ হয়েছিল। মৃত্যুর খানিক আগে যে নূর হোসেনের প্রতি দারুণ মমতা বোধ করেছিলেন আপনি!)। এই দেশের সংসদে বসেছে এই দেশের স্বাধীনতা-বিরোধী শ্বাপদ। এই দেশের নারীশিশুকে হত্যা করা, বিদেশি সৈন্যের পা-চাটা পশুর গাড়িতে উড়েছে লালসবুজ পতাকা! বর্তমানের এই দেশটির বেঁচে থাকার অর্থ যোগান দেয় যে শ্রমিক আর প্রবাসীরা, তাঁরা এখানে সবার চাইতে বেশি অবজ্ঞা নিয়ে বাঁচেন! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সত্যি সত্যি আমাদের মূর্খামির কোনো তুলনা হয় না! 
আমাদের এই দেশটিতে আমরা এত বেশিদিন পরাধীন থেকেছি যে আমাদের আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমরা এত বেশিদিন ক্ষুধার্ত থেকেছি যে আমাদের ভাবনা বদলে গেছে। আমরা এত বেশিরকমভাবে বেইমানির শিকার হয়েছি যে আমরা বিশ্বাস করতে পারি না। আমাদের নেতারা চোখের সামনে স্পষ্ট ভাষায় মিথ্যে বলেন। আমাদের দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলটি এই দেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ! এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হাজার কোটি টাকার অস্ত্র কেনার চুক্তি করেন যেই সময়ে, সেই একই সময়ে রাজপথে অর্ধভুক্ত শিক্ষকেরা পুলিশের পেপার-স্প্রে'তে জ্বলে মরে! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই দেশটির মানুষের শিক্ষার প্রয়োজন সম্পর্কে বুঝতে কোনো আলোচনা-তর্ক-বিতর্কের প্রয়োজন নেই। শিক্ষিত হয়ে ওঠা ছাড়া এই দেশ এবং এই জাতির আর কোনো পরিত্রাণ নেই!
দুর্ভাগ্যবশত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারার মতো সামাজিক অবস্থায় আমরা বেড়ে উঠতে পারিনি! আমরা সামাজিক জীবনে এত বেশি দুর্ভাগ্য এবং দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে গিয়েছি যে, খাবারের সংস্থান করা হয়েছে আমাদের বড়ো অর্জন। কীভাবে খাবার জুটবে এবং কীভাবে বেঁচে থাকা যাবে সেই ভাবনায় আমাদের অনেকেই জীবন পার করে দিয়েছেন। আমাদের অতি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা একটি বিলাসিতা। আমাদের যে অংশটি শিক্ষিত হতে চেষ্টা করে তাঁরাও সেই অন্নসংস্থানের জন্যেই শিক্ষার্জনে ছোটেন। কিন্তু এই মানসিকতার এবং অবস্থার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। অন্নসংস্থানের প্রয়োজন নিয়ে কেউ কোনো দ্বিমত করে না। কিন্তু শিক্ষা কেবল অন্নসংস্থানের উপায় নয়! এই সময়ে মানুষের জন্য শিক্ষা যে খাদ্যের মতোই প্রয়োজনীয় এই কথাটি কি আপনি আমাদেরকে বুঝিয়ে বলবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? আপনি কেবল জনসভায় বক্তব্য দিলে আমরা সেটা বুঝতে পারব না। কিন্তু কীভাবে বললে বুঝতে পারব সেটাও আপনি নিশ্চয়ই খুঁজে বের করতে পারবেন। আপনি কি আমাদেরকে বুঝিয়ে বলবেন যে খাদ্যের মতোই এই সময়ের সকল মানুষের জন্য আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজন? আর আপনি কি আমাদের জন্য শিক্ষাকে খাদ্যের পাশাপাশি খাবারের মতই সহজলভ্য করে দেবেন?
এক বিশাল জনগোষ্ঠী, যার বিরাট অংশ নিরক্ষর এবং যে জনগোষ্ঠী মিথ্যেবাদী নেতৃত্বের অভিজ্ঞতায় ক্লান্ত, সেই জনগোষ্ঠীর একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীত্বের ভার সহজ নয়। এবং কেউ একজন বললেই আপনি জাতীয় বাজেটের এক চতুর্থাংশ শিক্ষার পেছনে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন না। বরং আপনি হয়ত শিক্ষার উপর কীভাবে আপনার সরকার গুরুত্বারোপ করেছে এবং মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে পাশের হার কীরকম বেড়েছে সেই তথ্যগুলো টুকে রাখবেন পরবর্তী বক্তব্যের জন্য। এবং আমরা বুঝতে পারি চাইলেই হাজারো চাহিদা, হাজারো প্রয়োজন এবং চাপ এড়িয়ে গিয়ে জাতীয় বাজেটে এইরকমের পরিবর্তন নিয়ে আসা সহজ নয়। কিন্তু একইসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনার উপর ভরসা রাখতে চাই। আপনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, শিক্ষা এবং বোধের উপর ভরসা রাখতে চাই। আমরা আস্থা রাখতে চাই যে, সকল প্রয়োজন মিটিয়ে, সবকিছু সামালে দিয়েও আপনি বাজেটের ২৫ ভাগ আমাদের শিক্ষার জন্য দেবেন। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য, শিক্ষার প্রয়োজনে এই টাকাগুলো পাওয়া আমাদের অধিকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকারই আমাদের বর্তমান শিক্ষানীতিটি পাশ করেছে। এই শিক্ষানীতিটিকে বাস্তবায়িত করার দায়ও আপনার সরকারের। কিন্তু বাস্তবে আমরা এই শিক্ষানীতিটিকে বাস্তবায়িত করার মতো শক্ত শিক্ষা-বাজেট দেখিনি! এবার কি দেখবো সেটি আমরা? একটি সমর্থ শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে সেটাকে বাস্তবায়ন করার মতো অর্থের যোগান না দিলে পুরো বিষয়টিই বড্ড উপহাস হয়ে দাঁড়ায়। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল বিষয়ক আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের পর না খাবারের যোগান কমিয়ে দেয়ার মতো উপহাস! আমাদের রাজনৈতিক নেতারা আমাদের আস্থার যথেষ্ঠ উপহাস করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে অনুরোধ, আমাদেরকে সেই পুরোনো দুঃস্বপ্ন আর দেখাবেন না।
একইসঙ্গে আমরা আশা করে থাকি যে, আপনি শিক্ষার জন্য যে বাজেট হবে, সেই বাজেটের ভ্রান্তিগুলো উঠিয়ে নেবেন। যেমন বললাম, আমাদের অনেক নেতা নানাবিধ আয়োজন করে মিথ্যে বলতে অভিজ্ঞ! এইক্ষেত্রে হয়ত ভ্রান্তি তৈরির জন্য ভেবেচিন্তে করা হয়নি, কিন্তু তবুও আমাদের শিক্ষাবাজেট দারুণ বিভ্রান্তিকর! বাজেটে শিক্ষার সঙ্গে প্রায়শই স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ইত্যাদি খাতকে যুক্ত করে দেয়া হয়। আর তখন মূলত শিক্ষার জন্য আমাদের দেশটি কত বরাদ্দ পাচ্ছে সেই তথ্যটি অস্বচ্ছ হয়ে পড়ে। সবশেষে সেই অর্থের ভাগবাটোয়ারার পরের চিত্র তো আপনার জানা রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! রাজপথে বেতনের জন্য পুলিশের পেপার স্প্রেতে ঝলসানো আমাদের শিক্ষকদের চেহারা আপনার নজর এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একজন প্রাথমিক শিক্ষককে আপনি যে বেতন দেন সেই টাকায় আপনি অথবা আপনার পরিবাররে কোনো একজন সদস্য এক সপ্তাহ কাটাতে পারবেন?
একটি বিষয় খুব সাধারণ চিন্তাতেও বোধগম্য যে কেবল বাজেট বাড়িয়ে দিলেই রাতারাতি সবকিছু বদলে যাবেনা। কিন্তু এটাও খুব সহজ হিসেব যে, অর্থসংস্থান থেকেই শুরু হয়, শুরু হবে। সেই অর্থ কীভাবে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক শকুনদলের নজর এড়িয়ে ঠিক ঠিক কাজে লাগাতে হবে সেটা তো আপনার চাইতে ভালো কারো জানার কথা নয়! আমাদের শিক্ষামন্ত্রী অসাধারণ একজন মানুষ। আমরা তাঁর উপর আস্থা রাখি। তিনি এই টানাপোড়েনের সময়েও শিক্ষার জন্য যা করেছেন, যেভাবে করেছেন, সেজন্য আমরা তাঁকে মনে রাখবো। আমরা ভরসা রাখি যে প্রয়োজনীয় বাজেট পেলে তিনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে জাদুর মতো বদলে দেবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই দেশটির বর্তমান অবস্থা হুট করে বদলে যাবে না। কিন্তু শিক্ষা এই দেশের মানুষদের আরো সচেতন, আরো যোগ্য আরো নাগরিক করে তৈরি করবে। কে না জানে শিক্ষিত মানুষেরাই কেবল একটি সহজ এবং সুন্দর দেশ গড়তে পারেন! অশিক্ষিত লোকেরা কোথাও কখনো কোনো সুন্দর দেশ গড়ে তোলেনি! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ থেকে অনেক বছর পরে এই দেশটি যখন একেবারে বদলে যাবে, সেই বদলে যাওয়া দেশে আপনাকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই। আমরা বলতে চাই, আপনি শুরু করেছিলেন। আধুনিক, উন্নত এবং শিক্ষিত বাংলাদেশের শুরু হয়েছিল আপনার প্রচেষ্টায়। অনেক অসম্ভবের দেশে সম্ভাবনার শুরু হবে আপনার হাতে, সেটি আশা করা খুব বড়ো বোকামি হচ্ছে না নিশ্চয়ই?
আপনার জন্য শুভেচ্ছা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ভালো থাকুন সবসময়। আপনার হাতেই পরিবর্তনের শুরু হোক।
অনার্য সঙ্গীত
------------------------------------------------------------------
কৃতজ্ঞতা: তৃষিয়া নাশতারান, গৌতম রায় এবং বাংলাদেশের শিক্ষা ওয়েবসাইট।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন
.

কোন মন্তব্য নেই: