শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৩

সশস্ত্রবাহিনী কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নয়

(১)
বাংলাদেশের সবচে বড় দূর্ভাগ্যগুলোর একটি হচ্ছে এই দেশের সেনাশাসন।

আমি জলপাই বলছি !


স্বাধীনতার চারবছরের মাথায় এই রাষ্ট্রের স্থপতি খুন হলেন। গুলি করে মারা হল তাঁর পরিবারের সম্ভব সকল সদস্যকে। ১০ বছরের রাসেল খুন হলেন। তারপর জেলের ভেতরে গুলি করে খুন করা হলো জাতীয় চারনেতাকে। যারা গুলি করল তারা জাতীয় চার নেতার পায়ের ধুলির যোগ্যও নন। তাদের শতপুরুষের কেউ কখনো হয়ে উঠবে না। কিন্তু কেবল বন্দুকের বলে কী অসামান্য সর্বনাশ করে দিল তারা এই দেশটির!

আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, বাঙালি হিসেবে আমি সবচে বেশি লজ্জিত কোন ঘটনায়, তাহলে আমি বলব এই দুটি ঘটনার কথা। নিজের দেশের স্থপতিকে হত্যা করার জন্য, নিজের দেশের মানচিত্র তৈরির সেরা চার কারিগরকে হত্যা করার জন্য যতটা বেঈমান হতে হয়, সেরকম বেঈমান কোন জাতির অংশ হতে আমার লজ্জা লাগে!

সবার নিশ্চয়ই জানা যে বাংলাদেশের আরো নানারকম সমস্যা রয়েছে। এইসব সমস্যার কথা আমি নিয়মিত শুনি, দেখি। কিন্তু বেশিরভাগক্ষেত্রেই এসব সসমস্যাকে যৌক্তিকভাবে আমি পাত্তা দিতে পারিনা! আমরা সচারচর আমাদের ইতিহাস বিবেচনা করিনা। মানচিত্রে একচিমটি এই দেশের কী কী ক্ষমতা রয়েছে সেইটা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়।

বাংলাদেশের যে ভূখণ্ড আর সেই ভূখণ্ডে যতো মানুষ বাস করে সেইটা বাকি পৃথিবীর হিসেবে (বেশিরভাগ দেশের মানুষের কাছে) একটা বিস্ময়। বাদামের খোসার মতো একটা দেশে ১৬ কোটি মানুষ বাস করে আর সেই মানুষেরা এখনো সবাই মরে যায়নি সেইটা কীভাবে সম্ভব তা উন্নত দেশের মানুষদেরকে বুঝিয়ে বলা কঠিন। এইটুকু ভূখণ্ডে আমরা ১৬ কোটি মানুষ খেয়ে বেঁচে থাকি। এই দেশের প্রতিটি শিশু শিক্ষা পায় বিনামূল্যে তো বটেই, বরং উল্টো তাদেরকে খাবার আর টাকা দেয়া হয় শিক্ষা গ্রহন করলে। যাঁদের জানা নেই, তাঁদেরকে জানিয়ে রাখি, খুব কম উন্নত রাষ্ট্রই তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশের মতো মূল্যে শিক্ষার সেবা পৌঁছে দিতে পারে। বড় বড় মাতবর রাষ্ট্রেরা তাদের নাগরিকদের সঙ্গে শিক্ষার ব্যবসা করে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা সেবা পেতে মাসে মাসে টাকা দিতে হয়না। রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা (সে এতগুলো মানুষের জন্য অপ্রতুল হলেও) পাওয়া যায় হাস্যকর রকমের কম মূল্যে।

বাংলাদেশের বড় বড় সমস্যা রয়েছে। এই দেশের মানুষেরা সম্ভব হলেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। ভিনদেশে গিয়ে খেটে মরে। খেটে খেটে কী করে? এই দেশটির রোজগারের বড় উৎসগুলোর একটি হচ্ছে দেশের মায়া ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এইসব খেটে মরা বোকারা। লাখে লাখে মানুষ দেশ ছেড়ে গিয়ে দেশটাকে আরেকটু বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহনকে অন্যায় মনে করা হেফাজতে ইসলামের মতো মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়তে থাকা এই রাষ্ট্রটির সবচে বড় রোজগারের অন্য উৎসটি হচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প। যেই পোশাক তৈরি হয়ে দারুণ পরিশ্রমী নারী-পুরুষের হাতে। যাঁরা সমাজের সবচে নিচের স্তরে বাস করেন।

ভৌগলিক ভাবে নানান সমস্যায় ভোগা অঞ্চলের ভূখণ্ড এটি। ঝড়-বন্যা হয় প্রতিবছর। বাংলাদেশে হওয়া মাঝারি ধরনের একটা বন্যা যদি উন্নত বিশ্বের কোন একটিতে হয় তাহলে তারা নরক দেখে ফেলবে। বেশিরভাগ দেশেই প্রশাসন ভেঙে পড়ার একটা সম্ভাবণা উড়িয়ে দেয়া যায়না। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা ঠিক এইসব প্রাকৃতিক দূর্যোগ পাত্তা দেইনা। ঝড় বন্যার মাঝে, এইটুকু জমিতে, এতগুলো মানুষ আমরা, তার উপর আছে মানুষের সন্মান না জানা হেফাজত শফির মতো উৎপাত! তারপরও এই দেশটি তার সমপর্যায়ের দেশগুলোর তুলনায় যুগ যুগ এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ আজকে যে অবস্থানে রয়েছে সেই অবস্থানে আসার জন্য এইদেশের সব মানুষকে অসাধারণ হতে হয়েছে। তা না হলে এই দেশটি টিকে থাকতো না!

কিন্তু কেউ যদি বলে এই দেশটি স্বাধীনতার প্রায় অর্ধেকটা সময় সশস্ত্রবাহিনী দিয়ে শাসিত হয়েছে, তখন সেই লজ্জা ঢাকবার উপায় কী? রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের এই পরাজয় আমরা কীভাবে লুকোব?

বাংলাদেশের সবচে বেদনার এবং সবচে বড় দূর্ভাগ্যের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সশস্ত্রবাহিনীর একটা সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সবচে বেশি ক্ষতি হয়েছে যে ঘটনাগুলোতে, একেবারে শুরুর দিকের সেসব ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর প্রত্যক্ষ অংশ রয়েছে। একটা দেশের চাষাভুষো মানুষেরা যখন কাদামাটি থেকে উঠে এসে একটা প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে জিতে যায়, তখন সেই দেশের মানুষদেরকে থামিয়ে রাখার আর কোন উপায় থাকেনা। থাকার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের ছিল। বাংলাদেশকে থামিয়ে দিল এই দেশেরই সশস্ত্রবাহিনী! যেই বাহিনীর উপর দেশ রক্ষার ভার দিয়ে অস্ত্রফেলে নিশ্চিন্ত হয়েছিল যুদ্ধফেরত চাষাভুষোর দল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী চারবছরের মাথায় দেশের শাসন ক্ষমতা দখল করে এই দেশের সশস্ত্রবাহিনী। ইতর বদলে বদলে সেই ক্ষমতা বন্দুকের ডগাতেই থেকে যায় পরের প্রায় পনের বছর। গণতন্ত্র একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। কিন্তু এটাও সকল স্বাভাবিক জ্ঞানবুদ্ধির মানুষেরা জানেন যে, গণতন্ত্রকে ধারণ করার জন্য এই  প্রক্রিয়ার চর্চা করা যেকোন নতুন জাতিকেই খানিকটা সময় পার করতে হতে পারে। গণতন্ত্র একেবারেই সরাসরি সাধারণের উপর ভর করে টিকে থাকে। আর সাধারণ রাতারাতি গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠেনা। গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠার জন্য যে শিক্ষা এবং মননের প্রয়োজন সেসব সবখানে ঠিকঠিক ছড়িয়ে যেতেও খানিকটা সময়ের প্রয়োজন। সেইজন্য কোন নতুন জাতির গণতন্ত্রের রাস্তা যদি খুব ফুলেফুলে ছাওয়া না-ও হয়ে থাকে তাহলেও সেটা বিশেষ আতঙ্কের কোন বিষয় নয়। সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গণতন্ত্রকে ধারণ করে পূর্ণ সভ্য হয়ে উঠতে ভয়াবহ সব সময় পার করেছে। সেইজন্য গণতন্ত্রে খানিকটা টানাপোড়েন যে আমাদেরকে সহ্য করতে হবে সেটা আমরা জানি। সেই টানাপোড়েনকে আমরা কমিয়ে আনতে চেষ্টা করি, অস্বীকার করিনা।

কিন্তু আমরা আমাদের গণতন্ত্রকে উপযুক্ত হয়ে উঠতে দিলাম না। স্বাধীনতার পরেরমুহূর্তেই সেনাশাসনের ছায়ায় বাংলাদেশের বুদ্ধিমত্তা আর মানবিকতার বিকাশে একটা দাঁড়ি পড়ে গেল। আমরা দুটো বিষয় শিখে গেলাম। প্রথমত, সেনাশাসনেও বেঁচে থাকা যায়। এবং দ্বিতীয়ত, পাড়ার মোড়ে উঠতি যুবকের লম্বা চুল জনসমক্ষে কেটে দিয়ে জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ত্বরিৎ পদ্ধতি থাকে নির্বোধ অহংকারে পুড়ে মরা বন্দুকওয়ালাদের কাছে!

দীর্ঘ সেনাশাসনের সবচে বড় সর্বনাশ হল আমাদের বোধের। আমরা সাধারণ মানুষেরা সত্যি সত্যি গণতন্ত্র কী জিনিস সেইটা বুঝতে মোটামুটি অক্ষম হয়ে উঠলাম। ফ্রি হিসেবে বিশ্ববেহায়া সাহেবের নয় বছরের শাসনে আমরা শিখে গেলাম দূর্নীতি কীভাবে করতে হয়। এই দেশের মানুষেরা এই সময়ে বুঝে গেল দেশটা তাদের আপন কেউ নয়। দেশ তাদের অস্তিত্বের কোন অংশ নয়। বরং দেশটাকে নিংড়ে যতটুকু পারা যায় নিজে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করাই ভালো।

নানান সংগ্রাম করে দেশে গণতন্ত্র ফিরল। নব্য গণতন্ত্রে টানা পোড়েন থাকে, থাকবেই। কিন্তু দেড়যুগের মাথায় আবার ব্যারাক থেকে অস্ত্র নিয়ে হাজির হলো জলপাই। পাঁচ বছর হয়েছে এখনো এই দূর্ভাগ্য পেরোনর পর? ইতিহাস পাঠের ব্লগ এটি নয়। ইতিহাস আমার নখদর্পণেও নয়। কিন্তু নিতান্ত বাধ্য হয়েই ইতিহাস পাঠ দিতে হল। স্বাধীনতার পরের প্রায় অর্ধেকটা সময় যে এই দেশটাকে এই দেশেরই সশ্রস্ত্রবাহিনী বন্দুকের ডগায় শাসন করেছে সেই নিতান্ত লজ্জার কথাটা মনে করিয়ে দেয়ার দরকার ছিল।

(২)
সম্ভবত ভয়াবহ রকমের অশিক্ষা আর নির্বুদ্ধিতার জন্যে এই দেশের কিছু কিছু সেনাকর্মকর্তার কখনো কখনো মনে হতে থাকে যে, দেশটা ঠিকঠাক চলছে না। এবং দেশটাকে "লাইনে' আনার জন্যে বন্দুক নিয়ে তাদেরকে মাঠে নামতে হবে। অথবা হয়তো, এই দেশের কোন কোন সেনাকর্মকর্তা ভালো রকমের রাজনীতি সচেতন। রাজনীতি তাদের হাঁটুর ভার ক্রমশ বাড়িয়ে দিতে থাকে বলেই তারা রাজনীতিতে অংশ নিতে চায়। তারা বুঝতে ব্যর্থ হয় সশস্ত্রবাহিনীর কাজ রাষ্ট্রপরিচালনা করা নয়। রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য সশস্ত্রবাহিনী গঠিত হয়না। কেবল একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রই সশস্ত্রবাহিনী দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। এবং বিশ্বের রাজনীতিতে খুব খোলামেলা একটি বিষয় হচ্ছে বৈশ্বিক মোড়লেরা দূর্বল রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে সেই দেশেরই সশস্ত্রবাহিনীর মাধ্যমে!

সশস্ত্রবাহিনী রাষ্ট্রের অংশ। এবং সশস্ত্রবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। মজার বিষয় হচ্ছে, দরিদ্র দেশগুলিতে রাষ্ট্রের উন্নয়নে কোন অবদান না রেখেও সবচে বেশি রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করা সশস্ত্রবাহিনী পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সরকারকেই। আমাদের দেশেও যখন এখানে সেখানে অপদার্থ রাজনীতিবিদেরা অপরদলকে পথে আনতে চেঁচিয়ে সেনাবাহিনীকে ডাকতে থাকে তখন এই নোংরা সত্যটি দেখতে পাওয়া যায়। সশস্ত্রবাহিনীর কেবল রাজনীতিতে নয়, অর্থনীতিতে (যেই অর্থনীতি সাধারণের কোন উপকারে আসেনা) আশঙ্কাজনক অংশগ্রহনও দেখা যায় সেনাপ্রভাবিত দেশগুলোতে । সশস্ত্রবাহিনীর চমৎকার সফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দেখে একটি দেশের মেরুদণ্ড কতখানি শক্ত তার খানিকটা আঁচ পাওয়া যায়!

খুব বেশিদিন হয়নি এই দেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ সরাসরি বন্দুকের নল থেকে সরেছে। এবং ইতিহাস বলে যে এই সম্ভাবণা শেষ হয়ে যায়নি। এই দেশে এখনো যথেষ্ঠ নির্বোধ রয়েছে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় সেনাবাহিনিকে দেখতে চায় অথবা সহ্য করতে চায়। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে সশস্ত্রবাহিনীতে নির্বোধের অভাব সবচে কম। সেইজন্য যখনই দেশের রাজনীতিতে কোন টানাপোড়েন দেখা যায় তখনই তারা দেশটাকে লাইনে আনার অর্গাজমে ভুগতে থাকে।

গণতন্ত্রে টানাপোড়েন শুরু হলে দুটো বিষয় হয়,
প্রথমত, একটা অজুহাত তৈরি হয়। দেশ বেলাইনে যাচ্ছিল। দেশটাকে "লাইনে' না আনলেই চলত না।
এবং দ্বিতীয়ত, রাজশক্তির অর্গাজমিক স্বাদ নেয়ার যে খায়েশ ঠেলেঠুলে চেপে রাখা গিয়েছিল এতকাল সেটা মিটিয়ে নেয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়। তাতে এমনকি ভবিষ্যতেও তখতের আশেপাশে অবস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবণা সৃষ্টি হয়। (বলে রাখি, বর্তমান প্রধামমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা সেনাশাসককে তখতের আশেপাশে রেখেছেন দীর্ঘদিন হয়। এই বিশ্ববেহায়া প্রাগৈতিহাসিক ভাঁড়টাকে পালার পেছনে ওনার রাজনৈতিক যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা নূর হোসেনকে মনে রেখেছি। মৃত্যুর দিনে নূর হোসেন আপনার মিছিলে আপনার সহসঙ্গী ছিল। আমরা জয়নাল, দীপালী, জাফর, আইয়ূব, ফারুক, কাঞ্চনকে মনে রেখেছি। আমাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষে যাওয়া আমাদের ভাইবোনদের আমরা  ভুলিনি। আমাদের দেশকে ৯ বছরে একশতাব্দী পিছিয়ে দেয়া বেহায়াটিকে রাজনৈতিক কারণের দোহাই দিয়ে আমরা ভুলতে পারব না।)

(৩)
পাঁচবছর হয়েছে আমরা সেনাশাসন থেকে বেরিয়েছি। গণতন্ত্রকে সময় না দিলে সে উপযুক্ত হবেনা, হয়না। আমাদের তাই দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। আমাদের যদি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, সে পরিবর্তন আসবে সাধারণের হাত ধরেই। তা সে যে পরিস্থিতিতেই হোক, যদি ব্যারাক থেকে বন্দুক নিয়ে কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে, তাহলে সেই নপুংশকটি রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হওয়া পর্যন্ত আমরা আবার পেছতে থাকব। অন্ধকারের দিকে যেতে থাকব। আবার সেই দীর্ঘ স্বপ্নশুরুর আন্দোলনে মানুষকে পথে নামতে হবে। তারপর কোন এক সময়ে ইতরটিকে ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বাংলাদেশকে আবার শুরু করতে হবে শুরু থেকে। ৪০ বছর হয় আমরা স্বাধীন। কিন্তু আমাদের গণতন্ত্রের পথে যাত্রা কেবল ৫ বছরের। আর কতবার আমরা নতুন করে শুরু করব?

আমি আশা হারাই না। আমি আশা করে থাকি এই দেশের মানুষেরা খানিকটা ঝড় ঝাপটা সামলে হলেও ঠিক ঠিক গণতন্ত্রকে ধরে ফেলবে। সশস্ত্রবাহিনীকে বুদ্ধি দিতে যাওয়ার মতো কৌতুক আর হয়না। কিন্তু কোন গণতান্ত্রিক দেশের সশস্ত্রবাহিনী কোন পরিস্থিতিতেই যে সেই দেশের শাসনব্যবস্থায় কোন প্রভাব রাখেনা, রাখতে পারেনা সেই বুদ্ধিটুকু এই দেশের সশস্ত্রবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মাঝে তৈরি হবে আমি সেই আশা করে থাকি।

সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরাও এই দেশের সাধারণ মানুষের মতো গণতন্ত্রকে গ্রহন করবেন। বুঝতে পারবেন। এবং সেই গণতন্ত্রে যদি তাঁরা কেউ কেউ অংশ নিতে চান তাহলে খুব সাধারণ নিয়মে অস্ত্র ছেড়ে, উর্দি ছেড়ে মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে নির্ভরশীর হবেন মানুষের ভোটের উপর। কারণ এই দেশটির মালিক সাধারণ মানুষেরা। এই দেশের নাম তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। আর সেজন্য যখন কেউ জনগণের নাকের সামনে অস্ত্র ঝুলিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তখন বস্তুত বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির সাংবিধানিক অস্তিত্ত্ব বিলুপ্ত হয়!

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সশস্ত্রবাহিনী কোনো পক্ষ নয়। এই কথাটি যদি সশস্ত্রবাহিনী বুঝতে না পারে তাহলে তারা যেন মনে রাখে গণতান্ত্রিক দেশকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা বন্দুকওয়ালার প্রথম প্রতিপক্ষ সেই দেশের সাধারণ মানুষ। বুঝতে পারার মতো বুদ্ধিমত্তার অভাব হলেও ইতিহাস মনে রাখার মতো স্মরণশক্তি অন্তত সম্ভাব্য সেনাশাসকদের আছে বলে আমি বিশ্বাস করতে চাই।

কার্টুন: সুজন চৌধুরী/আমি জলপাই বলছি  (শিল্পীর অনুমতিক্রমে প্রকাশিত)
কৃতজ্ঞতা: এস এম মাহবুব মুর্শেদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন
.

কোন মন্তব্য নেই: