সোমবার, ২৬ মে, ২০১৪

অ্যান্টিবায়োটিক পরবর্তী যুগ: মানুষের বিদায় ঘন্টা?

খানিকটা কাব্যিক শোনাতে পারে। যেরকম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে আর সামাজিক-রাজনৈতিক থ্রিলারে দেখা যায়, ঠিক সেইরকম মনে হতে পারে। কিন্তু আমি নিশ্চিত করছি, এইখানে কাব্যিক কিছু নেই। নিতান্তই বাস্তব দুঃসংবাদ লিখতে শুরু করেছি। আপনি পড়তে পারেন, নাও পড়তে পারেন। আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের নির্বুদ্ধিতার খেসারত দিতে শুরু করেছি!


পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে যে বিপর্যয় হবে সেই কথা আরো কয়েকদশক আগে থেকেই বলে আসছে বিজ্ঞান। (তাপমাত্রা বৃদ্ধির দুঃসংবাদ দিতে এই লেখা নয়।) আমরা সেই তাপমাত্রা বৃদ্ধির শাককচুতে পাত্তা দেইনি! আমাদের পাত্তা দেয়ার সুযোগ কম ছিল। পাত্তা দিতে পারত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রেরা। কিন্তু রাষ্ট্র যারা চালান তাদেরকে নির্বোধ এবং হৃদয়হীন হতে হয়। সেইজন্য বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে, বাড়ছে এবং আরো বাড়বে। আমরা ইতিমধ্যেই সেই পরিবর্তনের অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেছি। কিন্তু এ কেবল শুরু। পৃথিবী বদলাচ্ছে। আরো বদলাবে। নতুন প্রাণিকুল বিবর্তিত হবে। পৃথিবী হয়ত সুজলা সুফলা থেকে "সজলা খরস্রোতা' হয়ে উঠবে। পৃথিবী তার নতুন আরো সহনশীল প্রাণিকুল নিয়ে মহাশুন্যে ভেসে বেড়াবে ঠিকই। কেবল আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো!

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই কথাগুলো বলার কারণ হচ্ছে, একবার মনে করে নেয়া যে, সামাজিক প্রাণি হিসেবে আমরা নির্বোধ। বিচ্ছিন্ন সত্ত্বা হিসেবে আমাদের মাঝে অসাধারণ কৌতুহলী আর চিন্তাশক্তির অধিকারী মানুষেরা জন্মেছেন এবং জন্মাবেন। কিন্তু সংঘবদ্ধভাবে আমাদের চাইতে নির্বোধ গোঁয়ার প্রাণি আর হয়না।

×××

আমরা গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অদ্ভুত এক স্বর্গরাজ্যে বাস করছি। গতশতকের মাঝামাঝি অথবা তার আগের সময়ে ফিরে গিয়ে যদি কিছুদিন আমরা বেঁচে আসতে পারতাম তাহলে জীবন কাকে বলে সেই ধারনা খানিকটা আমাদের হতে পারত!

টাইফয়েডে মানুষ মরে যেতে দেখেছেন? দেখবার সম্ভাবণা কম। কারো টাইফয়েড হয়েছে শুনে আৎকে উঠেছেন? দুঃখ পেয়েছেন খুব? ঠিক যেমন কারো ক্যান্সার হয়েছে শুনে দুঃখ পান, সেরকম? মনে হয়না। বরং ভেবেছেন ঠিকমত ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নিলেই সেরে উঠবে টাইফয়েডের রোগী। ফোঁড়া কাটতে হবে শুনে ভয় পেয়েছেন কখনো? ফোঁড়া কাটলে মানুষটা না-ও বাঁচতে পারে বলে ভেবেছেন? কলেরায় কত মানুষ মরতে দেখেছেন? ওলাবিবির আক্রমণে গঞ্জ-গ্রাম উজাড় হয়ে যেত একটা সময়ে। এই দেশে। পৃথিবীর অনেক দেশেই। শামুকে পা কেটে গিয়ে মানুষ মরে যেতে পারে বলে মনে হয় আপনার? আমরা জানি, সে প্রায় অসম্ভব এখনকার সময়ে।

পায়ে একটা কাঁটা ফুটে ধনুষ্টংকার হয়ে মরে যেত মানুষ। চোখের সামনে, দেখতে দেখতে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর উঠে দুম করে মাঝরাত্তিরে নিঃশেষ হয়ে যেত প্রাণ। একটুখানি কাটা ঘা থেকে সংক্রমণে পচেগলে যেত মানুষ। মাত্র কয়েক দশক আগে। আমি অগুনতি নাম লিখতে পারি। যে কেউ পারবে। অগুনতি রোগে অগুনতি মানুষ মরে নিঃশেষ হয়ে যেত সারা পৃথিবী জুড়ে। খুব বেশি রোগের নাম শুনে ভয় পাইনা আমরা এখন। রোগীর জন্য সত্যিকারের দুঃখ হয় সেরকম রোগ কমই আছে এখনকার পৃথিবীতে। শেষপর্যায়ের ক্যান্সার অথবা খারাপ রকমের হেপাটাইটিস হয়েছে শুনলে কেবল এখন আমরা খানিকটা ভয় পাই!

অতি দীর্ঘ দিন হয় গড়পড়তা রোগের নামে আমাদের চোখ কাঁপে না। আগে একটা পরিবারের শিশু দুম করে একটা রোগ হয়ে মরে যেতে পারত খুব সহজে। আর সেই রোগের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাত তার সব স্বজন। সেই ভয় এখন নেই বললেই চলে। আমাদের এখন স্বর্গবাসের দিন। আমাদের রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক। যাদুর গুলি। রোগশোক আমড়াঢেঁকিতে ভয়ের অভিজ্ঞতা হতে দেয়নি আমাদের এই অ্যান্টিবায়োটিকেই।

×××

যে দুঃসংবাদটি দিতে চাইছিলাম, সেটি হচ্ছে, অ্যান্টিবায়োটিকের স্বর্ণযুগ শেষ হয়েছে। আমাদের স্বর্গবাসের সময়ও শেষ হয়েছে। আমাদের নরক দর্শনের দিন এখন। তবে কিছু হিসেবে আমরা খানিকটা ভাগ্যবান। সত্যিকারের নরক দেখবে আমাদের সন্তানেরা। বস্তুত নরক তারা এখন থেকেই দেখতে শুরু করেছে।

তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন একটা খুব ভালো ওষুধ ছিল। জুটিবেঁধে থাকা গোল গোল এক ব্যাকটেরিয়া জাতের শেষ ওষুধ। আগে সেফালোস্পোরিন খেলে ব্যাকটেরিয়া চামড়া ফুটো হয়ে তার নাড়িভুড়ি বাইরে এসে পড়ত। গণোকক্কাল সংক্রমণের (যেমন, গণোরিয়া) শেষ ভরসা সেফালোস্পোরিন এখন আর আমাদের ভরসা যোগাতে পারে না। সেফালোস্পোরিন প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে গেছে সারা দুনিয়ায়। আর এখনো সারা দুনিয়ায় প্রতিদিন কম করেও ১০ লাখ মানুষ গণোরিয়ায় সংক্রামিত হয় (সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)!

কার্বাপিনেম জাতের অসাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ছিল আমাদের। প্রাণঘাতি পেটের অসুখের ওষুধ (নিশ্চয়ই হেসে ফেলছেন অনেকে? পেটের অসুখে আবার মানুষ মরে নাকি! এতদিন মরত না অ্যান্টিবায়োটিকের জোরেই) । শিশুদের নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, রক্তের সংক্রমণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কার্বাপিনেম ছিল আমাদের বাঁচবার সর্বশেষ উপায়।

ফ্লোরোকুইনোলন নামের একটা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ এ বিরাট গন্ডগোল করে দিতে পারত। মুখ আর মূত্রনালীর সংক্রমণে অতি চমৎকার ওষুধ! এখনকার প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ফ্লোরোকুইনোলনে ডুবেও মরবে না। আমাদের মায়েদের, মেয়েদের মুত্রনালীর সংক্রমনের ভয় সবচে বেশি । আমাদের শিশুদের রয়েছে মারাত্মক মুখের সংক্রমণের ভয়। আমরা কী করব এখন?

স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামের একটা জাত রয়েছে ব্যাকটেরিয়ার। ল্যাবরেটরিতে খুব সহজে এতো দারুণসব পরীক্ষা করা যায় একে নিয়ে সে আর বলার নয়! এই জাতটাকে যখন পাওয়া যায় তখন পরীক্ষার পাত্রে স্বর্ণের মতো তাদের রং ছিল বলে এই জাতের নাম দেয়া হয়েছিল "অরিয়াস' (লাতিন শব্দ "অরাম' অর্থ স্বর্ণ)। আঙুরের মতো থোকা বেধে জটলা পাকিয়ে থাকে, আর দেখতে গোল বলে গোত্রের নাম হয়েছিল "স্টেফাইলোকক্কাস'। অতি চমৎকার ব্যাকটেরিয়া। বাস করে মানুষের ত্বকে। কিন্তু এরাই সামান্য কেটে গেলে অথবা নগন্য ক্ষত থেকে মানুষের জীবন নিয়ে নিতে পারে! এরা এই সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যে সামনের কাতারে রয়েছে!

এ সামান্যই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য খানিকটা তুলে দিয়েছি। মূল রিপোর্টটা পড়লে খানিকটা বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

২০১৪ সালের শেষ হিসেব থেকে আমরা এখন জানি, সারা পৃথিবী অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুতে ছয়লাব হয়ে গেছে! খুব সামান্য সংক্রমণ আর সাধারণ রোগেও এখন মানুষ মরে যাবে। যেমন হতো ৫০ বছর আগে। যেসব সাধারণ রোগকে আমরা পাত্তা দিতে শিখিনি, খুব অবাক হয়ে এখন আবিষ্কার করব সেইসব রোগেই আমাদের প্রিয়জনেরা মরে যাচ্ছে! অবাক করা বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাক্টেরিয়া সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ এবং তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই। তারমানে আমরা জানিও না ঠিক কী কী বিপদ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে! (সকল দেশেই ভারী আকারের প্রতিরক্ষা বাজেট রয়েছে! সত্যিকারের বুদ্ধিমান কোন প্রাণি যদি জানত আমরাও নিজেদেরকে বুদ্ধিমান বলে দাবী করি তাহলে কী হাসাহাসিটাই না তারা করত!)

আমাদের মতো প্রযুক্তিতে অনুন্নত এবং নির্বোধ দেশগুলো এখনো উন্নত পরীক্ষণের জন্য অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল। আমরা প্রয়োজনীয় শুমারী এবং গবেষণা করি না। যেসব দেশ তাদের প্রয়োজনে শুমারী এবং গবেষণা করে তাদের তথ্য থেকে একটুখানি আমরা জানতে পাই! তার মানে হচ্ছে, পরদেশী শিকারীর কাছ থেকে আমরা জেনেছি বনে বাঘ, ভালুক, নেকড়ে, কুমির, শিয়াল ইত্যাদি রয়েছে। আমাদের নিজেদের শিকারী নেই বলে আমরা জানতে পারছি না বনে রাক্ষস রয়েছে কীনা! কে জানে হয়তো নানাজাতের রাক্ষস খোক্কসেও আমাদের জঙ্গল ভর্তি!

×××

ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ার বড় কারণ হচ্ছে তাদের জীবনের চক্র অতি দ্রুত ঘোরে। তারমানে তারা অতিদ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

জেনেটিক কোড, যাতে জীবনের নিয়ম লেখা থাকে, সে বদলায়। বদলানো কঠিন। কিন্তু বদলায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বদলে যায় প্রজাতির রকম। ব্যাকটেরিয়া যেহেতু দুচারদিনে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের যাত্রা পার করে ফেলে তাই তাদের জেনেটিক কোড বদলায় খুব দ্রুত। সেইজন্য তাদের ভেতর প্রতিরোধী জিন তৈরির সম্ভাবণাও বেশি।

এবং আমরা তাদেরকে সাহায্য করি। বুড়ো ডারউইনের কথা তো আপনারা জানেনই। প্রাকৃতিক নির্বাচনে যোগ্যরাই টিকে থাকে। আমরা সবাই মিলে প্রাকৃতিক নির্বাচনে খুব দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াদের টিকে থাকার সুযোগ করে দেই। উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করি।

ধরুন হারাধনের দশটি ছেলেকে ছেড়ে দেয়া হলো ঢাকা শহরে। তাদের আর দশটা মানুষের মতই অতি সাধারণ। কেবল তারা বিশেষ একটা পানির ফিল্টার বানাতে পারে যা আর কেই পারেনা। এখন তাদের পক্ষে ঢাকা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাচ্চাকাচ্চা নাতিপুতি মিলে ঢাকা শহরে রাজত্ব করবার সম্ভাবণা ১৫ লক্ষে ১ (ধরছি ঢাকার জনসংখ্যা ১৫০ লক্ষ)। এতো কম সম্ভাবণা হলে সেটাকে পাত্তা না দিলেও চলে। এখন যদি একটা অজানা কারণে ঢাকার পানি বিষাক্ত হয়ে যায়? ওই একটি ফিল্টারের গুণে হারাধনের দশটি ছেলের ঢাকা শহরের মালিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবণা একশোভাগ।

আমরা যখন আমাদের পছন্দমতো অ্যান্টিবায়োটিক কিনে কিনে খাই তখন ওইরকম প্রাকৃতিক নির্বাচনে সাধারণ ব্যাকটেরিয়া মেরে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াদের টিকে থাকার এবং ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেই।

একটা অ্যান্টিবায়োটিকের পরিচিতি আমাদের কাছে কেবল একটি ওষুধ। কিনে খেলেই হয়। কিন্তু বস্তুত অ্যান্টিবায়োটিকে মহাভারতের গল্প থাকে। সব অ্যান্টিবায়োটিক সব ব্যাকটেরিয়াকে মারতে পারেনা, সবের মাত্রা এক নয়, সবের ক্ষমতা এক নয়, সবের কার্যপ্রণালীও ভিন্ন! অ্যান্টবায়োটিক পরস্পরের বিরোধী হতে পারে, পরস্পরের সহযোগী হতে পারে। অন্য ওষুধ/পদার্থের উপস্থিতিতে কখনো ইতিবাচক কখনো নেতিবাচক আচরণ করতে পারে! একটা অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে দশটা মহাকাব্য লিখে ফেলা যায়। একশোটা জীবন পার করে দেয়া যায় একটা অ্যান্টিবায়োটিকের ঠিকুজি বুঝতে বুঝতে!

আমি বলছিনা সবাইকে অ্যান্টিবায়োটিকের মহাভারত মুখস্থ করে ফেলতে হবে। কিন্তু মানুষের সবচে প্রয়োজনীয় জিনিসটি অন্তত কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেই তথ্যটুকু জানার এবং সেটা মেনে চলার মতো বুদ্ধিমত্তা তো আমরা দেখাতেই পারতাম, তাইনা?

একটি ব্যাকটেরিয়ার একটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন থাকলে সেটা সে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে। তার নিজের বংশধরেরা তো সেই জিন পায়-ই। এমনকি সেই ব্যাকটেরিয়াটি যদি মরে ছাতু হয়ে যায় তবুও প্রকৃতিতে পড়ে থাকা তার প্রতিরোধী জিন তুলে নিয়ে কাজে লাগাতে পারে অন্য ব্যাকটেরিয়া! একটি ব্যাকটেরিয়া কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে সেই তালিকা দেয়া তাই সহজ নয়!

সব মিলিয়ে সেজন্য আমরা নিশ্চিত জানি ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হবেই। কিন্তু আমরা সেই হার কমিয়ে আনতে পারি। তাদের ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে পারি। আর পারি নতুন আরো শক্তিশালী, আরো বিশেষায়িত অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করতে! সেই ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। কিন্তু এই পৃথিবীতে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে গবেষণা হয় কতটা? আপনি সেই হিসেব নিজেই করতে পারেন। এই দেশের ১৬০ মিলিয়ন মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে গবেষণা করার মতো উচ্চতর গবেষণাগার একটিও নেই। ১৬ কোটি মানুষের একটি জাতির বুদ্ধিমত্তা যে কত করুণ কৌতুক হতে পারে সে জানতে আমাদেরকে দেখা যেতে পারে!

প্রসঙ্গত মনে পড়ল, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধবিমান রয়েছে। ধারণা করি, এইসব ক্ষেপণাস্ত্র কিনে বেড়ানো বুদ্ধিমানেরা ওই ক্ষেপণাস্ত্রে ভর করেই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াদের থেকে পালাবার চিন্তা করে নিশ্চিন্ত থাকেন! অথবা তারা নিজেরা যে কীরকম বিপদে রয়েছেন সে বুঝতে যেরকম বুদ্ধিমত্তা দরকার হয় ওনাদের বুদ্ধিমত্তা তার চাইতে খানিকটা বেশি বেশি!

×××

"ডিনায়াল' পর্যায়ে যারা নেই তারা সম্ভবত এখন কী করা যেতে পারে বলে একটা প্রশ্ন করতে চাইছেন।

এই পৃথিবীর সকলে মিলে চেষ্টা করা যেত। এবং সেরকম হলে মানুষের টিকে যাওয়া খানিকটা নিশ্চিত হতে পারত। কিন্তু সে হয়নি। হবেও না। সেইজন্য কোন আশার বানী শোনাতে পারছি না।

আগে ভাবতাম, অসুখ-বিসুখ তো মানুষের হয়ই। কোন ভয়ঙ্কর কিছু যেন না হয় আমার স্বজনদের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই হিসেবটা আজ নাহোক কাল পেতে হবে সেটাও জানতাম। কিন্তু বড্ড তাড়াতাড়ি দুঃসংবাদটা পেয়ে গেলাম বলে মনে হচ্ছে। অত্রি, চন্দ্রা আর সূর্য আমার ভাগ্নে-ভাগ্নী। এদের কথা ভেবে মায়া লাগে! ভাবতে কষ্ট হয়। ভাবনা শেষ হয়না, বরং থেমে যায়। যেসব ঠুনকো রোগকে পাত্তাই দিতে শিখিনি আমরা, সেইসব সামান্য সংক্রমণ থেকে কী বিপদ হতে পারে ভাবলে ভয়াবহ ক্রোধে মাথা বিস্ফোরিত হতে চায়!

বিশেষত যখন আমি জানি সবকিছুর পরেও কিছু বদলাবে না। পৃথিবীর শিক্ষা আর গবেষনা বাজেট কোন যাদুবলেই আশাপ্রদ হয়ে উঠবে না। পৃথিবীর নীতিনির্ধারকেরা কোন মন্ত্রেই মানুষের প্রতি মমতা দেখাতে শিখবে না! 

কোন মন্তব্য নেই: